তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মধ্যেই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিয়ার স্টারমার (Keir Starmer)। রোববার তার ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল (Daily Mail)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে—তিনি বুঝতে পেরেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি আর দীর্ঘ সময় ধরে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়টি তিনি এখন গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছেন। তবে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তিনি নিজের শর্তে এবং নিজের নির্ধারিত সময়ে কার্যকর করতে চান।
ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার এক সদস্যের বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, স্টারমার মর্যাদা বজায় রেখেই বিদায় নিতে আগ্রহী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই তার পদত্যাগ বা সরে দাঁড়ানোর সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন।
বর্তমানে লেবার পার্টি (Labour Party) সরকারের ওপর জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকায় স্টারমার প্রশাসন গভীর সংকটে পড়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে দলের বড় ধরনের ভরাডুবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর পাশাপাশি পিটার মেন্ডেলসনকে ঘিরে বিতর্ক এবং শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন (Jeffrey Epstein)-এর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব বিতর্কের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর। ফলে তার পদত্যাগের দাবি এখন শুধু বিরোধী দল নয়, লেবার পার্টির ভেতর থেকেও জোরালো হচ্ছে।
সবশেষ বড় ধাক্কাটি আসে স্টারমার সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং (Wes Streeting)-এর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। শনিবার তিনি ঘোষণা দেন, লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে তিনি সরাসরি স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন। এই ঘোষণাকে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তার আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে স্ট্রিটিং স্টারমারকে দ্রুত তার বিদায়ের ‘সময়সূচি’ নির্ধারণের আহ্বানও জানিয়েছেন। এতে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল।


