বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ইরান (Iran) যদি দ্রুত কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে দেশটির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। রোববার (১৭ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তেহরানের উদ্দেশে এই সরাসরি আলটিমেটাম দেন তিনি।
ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় লেখেন, ইরানের সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে এবং খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে দেশটির আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তার ভাষায়, এখন প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। ট্রাম্পের এমন বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এর আগে গত ১১ মে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান সাময়িক যু’\দ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া শান্তি চুক্তির প্রস্তাবের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে যে সংশোধনী দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে তিনি ‘স্টুপিড’ বা নির্বোধসুলভ বলে আখ্যা দেন। সেই সময় থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে শুরু করে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তেহরান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates)-এর আবুধাবিতে অবস্থিত কৌশলগত ‘বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’-এ রহস্যময় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পরপরই ট্রাম্পের এমন হুমকি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য কঠোর বার্তা মিলিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও সর্বাত্মক যু’\দ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


