সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ (Bangladesh Cricket Team)। প্রথম ইনিংসের লিডের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান (Pakistan Cricket Team)-এর সামনে ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। দিনশেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে শূন্য রান করেছে পাকিস্তান। ফলে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১০ উইকেট, আর পাকিস্তানের সামনে দাঁড়িয়ে ইতিহাস গড়ার কঠিন পরীক্ষা।
১৫৬ রানের লিড নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে সকালেই ধাক্কা খায় দলটি। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত (Najmul Hossain Shanto) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১৫ রান করে ফিরলে ১১৬ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তবে এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন লিটন দাস (Litton Das) ও মুশফিকুর রহিম (Mushfiqur Rahim)। পঞ্চম উইকেটে তাদের জুটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে ম্যাচের চালকের আসনে বসিয়ে দেয়।
সকালের সেশনে পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। সেশন শেষে বাংলাদেশ তোলে ১ উইকেটে ৯৩ রান। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়, সিলেট টেস্টে ম্যাচের রাশ শক্তভাবে ধরতে শুরু করেছে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই ৬৭ বলে ক্যারিয়ারের ২০তম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। খুররম শাহজাদের বলে দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভে চার মেরে মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। অন্যদিকে মুশফিকও ছিলেন সমান সাবলীল। কিছুক্ষণ পর নিজের ৩০তম টেস্ট ফিফটিও তুলে নেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
লিটন অবশ্য জীবনও পেয়েছিলেন। ৫৫ রানে সাজিদ খানের বলে লং অনে ক্যাচ তুললেও ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি বোলার। প্রথম ইনিংসেও সুযোগ পেয়েও লিটনকে ফিরাতে পারেনি পাকিস্তান, যেখানে তিনি করেছিলেন ১২৬ রান। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ভুলের পুরো মূল্য দিতে হয়নি সফরকারীদের। ৬৯ রান করে হাসান আলীর বলে আউট হন লিটন। ৯২ বলের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার।
লিটনের বিদায়ের পর মুশফিককে সঙ্গ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ৩৪ রানের জুটি বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেয়। তবে খুররম শাহজাদের দুর্দান্ত এক আউটসুইংয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন মিরাজ।
এরপরই শুরু হয় মুশফিকুর রহিমের আরেকটি স্মরণীয় ইনিংস। ধীরে ধীরে শতকের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। চা বিরতির সময় তিনি ছিলেন ৯০ রানে অপরাজিত। বিরতির পর মোহাম্মদ আব্বাসের বলে চার মেরে পূর্ণ করেন নিজের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি।
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে মুমিনুল হককে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিকও হয়ে যান মুশফিক। একই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
শেষদিকে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মুশফিক। তাইজুল ২২ রান করে ফিরলেও দলের স্কোর বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পরে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে আউট হন তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম।
শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে মুশফিক খেলেন ১৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তার ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২.২ ওভারে ৩৯০ রানে অলআউট হয়। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিড যোগ করে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য।
টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ সফল রানতাড়ার রেকর্ড ৪১৮। পাকিস্তানের নিজেদের সর্বোচ্চ সফল রানতাড়া ৩৭৭। ফলে সিলেটে তাদের সামনে এখন নতুন ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ।
দিনের শেষভাগে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নামলেও আলোকস্বল্পতায় খেলা হয় মাত্র দুই ওভার। তাসকিন আহমেদ (Taskin Ahmed) ও শরীফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কোনো রান তুলতে পারেনি পাকিস্তানের দুই ওপেনার।
তিন দিন শেষে ম্যাচের লাগাম পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে। এখন চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০ (মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, মাহমুদুল ৫২; খুররম ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬)
