মু’\সল্লি ও শিশুদের বাঁচাতে গি’\য়ে প্রাণ দিলেন আমিন আবদুল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্রে ‘বীর’ হিসেবে সম্মান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া (California)-র সান ডিয়েগোতে একটি মসজিদে সশস্ত্র হা’\মলার সময় মু’\সল্লি ও শিশুদের রক্ষা করতে গিয়ে নি’\হত হয়েছেন নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ (Amin Abdullah)। স্থানীয় প্রশাসন, মুসলিম সম্প্রদায় ও মানবাধিকারকর্মীরা তাকে সাহসিকতার প্রতীক ও “বীর” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সোমবার সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে দুই কিশোর হা’\মলাকারীর গু’\লিতে অন্তত তিনজন নি’\হত হন। পুলিশ ঘটনাটিকে ঘৃণাজনিত অ’\পরা’\ধ হিসেবে তদন্ত করছে। হা’\মলার পর সন্দেহভাজন দুই হা’\মলাকারী কয়েক ব্লক দূরে গিয়ে আত্মহ’\ত্যা করে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল (Scott Wahl) বলেন, আমিন আবদুল্লাহর সাহসী ভূমিকার কারণেই আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তার ভাষায়, “তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল। তিনি অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।”

ঘটনার সময় মসজিদ কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা আল রশিদ স্কুলে শিশুরা উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ। হা’\মলাকারীরা যাতে শিশুদের কাছে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য আমিন আবদুল্লাহ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় মুসলিম নেতারা।

পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা গেছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামিক সেন্টারে নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব পালন করছিলেন আমিন আবদুল্লাহ। স্থানীয় মুসলিম সমাজে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও সম্মানিত মুখ।

শায়খ উসমান ইবনে ফারুক (Uthman Ibn Farooq) বলেন, “নিরীহ মানুষকে রক্ষা করার ইচ্ছা থেকেই তিনি নিরাপত্তারক্ষীর পেশা বেছে নিয়েছিলেন।”

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, তিনি আট সন্তানের জনক ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার প্রায় ১ হাজার ৮০০ অনুসারী ছিল।

মৃ’\ত্যুর আগে ১৩ মে দেওয়া তার সর্বশেষ পোস্টে একটি মসজিদের মিনারে বসে থাকা বাজপাখির ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, “মিনারে আবারও বাজপাখি, আল্লাহু আকবার।”

এরও আগে ৫ মে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, “সফলতা কী? অনেকের কাছে সফলতা মানে আর্থিক স্থিতি, সুনাম বা সৌন্দর্য। কিন্তু আমার কাছে সফলতা হলো সেই পবিত্র আত্মা নিয়েই আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া, যেভাবে তিনি জন্মের সময় আমাকে তা দিয়েছিলেন।”

তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে ইসলাম নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবনা, অনুপ্রেরণামূলক লেখা এবং তীরন্দাজি অনুশীলনের ভিডিওও দেখা যায়।

মার্কিন মুসলিম স্কলার ওমর সুলাইমান (Omar Suleiman) সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখেন, “ভাই আমিন আবদুল্লাহ বহু বছর ধরে মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি হা’\মলাকারীদের শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”

স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে সক্রিয় বন্দুকধারীর খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানান, হা’\মলার আগে এক কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তার ছেলে আত্মহ’\ত্যাপ্রবণ অবস্থায় নিখোঁজ এবং বাড়ি থেকে অস্ত্র ও একটি গাড়ি উধাও রয়েছে।

পরে পুলিশ জানতে পারে, সন্দেহভাজন দুই তরুণের বয়স ১৭ ও ১৮ বছর। তারা ছদ্মবেশী পোশাকে ছিল এবং তদন্তে তাদের মধ্যে মু’\সলিমবিরোধী ঘৃণামূলক মনোভাবের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান স্কট ওয়াহল।

সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় এই মসজিদ কমপ্লেক্সে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আরবি ভাষা, ইসলামিক শিক্ষা ও কোরআন শিক্ষার জন্য আল রশিদ স্কুল পরিচালিত হয়।

ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক ইমাম তাহা হাসসানে (Taha Hassane) বলেন, “কোনো উপাসনালয়ে হা’\মলা চালানো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।”

মার্কিন মুসলিম অধিকার সংগঠন কেয়ার (সিএআইআর) এই হা’\মলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মু’\সলিমবিদ্বেষ এখন ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani) ঘটনাটিকে “মু’\সলিমবিরোধী সহিংসতার ভয়ংকর উদাহরণ” বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) একে “ভয়াবহ পরিস্থিতি” বলে উল্লেখ করেছেন।