সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘মেলোডি’ (Melodi) ট্রেন্ড এবার সরাসরি প্রভাব ফেলেছে ভারতের শেয়ার বাজারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni)-কে ঘিরে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের ভুল ব্যাখ্যা ও হুজুগে সিদ্ধান্তে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় একটি স্মল-ক্যাপ কোম্পানির শেয়ারদর। এতে বাজারে তৈরি হয় এক অদ্ভুত ও হাস্যকর পরিস্থিতি।
ভাইরাল ভিডিও ও বিভ্রান্তির শুরু
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নরেন্দ্র মোদি জর্জিয়া মেলোনির হাতে ‘মেলোডি’ (Melody) টফি তুলে দিচ্ছেন। এই দৃশ্য থেকেই তৈরি হয় ব্যাপক কৌতূহল ও বিভ্রান্তি। অনেকেই ধারণা করেন, জনপ্রিয় ‘মেলোডি’ চকলেটের সঙ্গে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সেই ধারণার ভিত্তিতেই হঠাৎ করেই শেয়ার বাজারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন একদল বিনিয়োগকারী।
এই হুজুগের জেরে তারা দ্রুত ঝুঁকে পড়েন ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ’ (Parle Industries) নামের একটি কোম্পানির শেয়ারের দিকে। অল্প সময়ের মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন
অথচ বাস্তব চিত্র ছিল একেবারেই আলাদা। ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ’ একটি স্মল-ক্যাপ প্রতিষ্ঠান, যার মূল ব্যবসা ইনফ্রাস্ট্রাকচার, রিয়েল এস্টেট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং রিসাইক্লিং খাতে বিস্তৃত। চকলেট বা কনফেকশনারি ব্যবসার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্কই নেই।
অন্যদিকে, বহু জনপ্রিয় ৪৩ বছরের পুরোনো ‘মেলোডি’ চকলেটের প্রকৃত নির্মাতা হলো এফএমসিজি জায়ান্ট পার্লে (Parle)। প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বেসরকারি এবং শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তও নয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই ভুল ধারণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বাজার পর্যবেক্ষকদের মত।
শেয়ার বাজারের আগের অবস্থা
ঘটনার আগে গত তিন মাসে পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে ধারাবাহিক পতন চলছিল। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে ৮.০৮ রুপি থেকে নেমে ৫.২৫ রুপিতে পৌঁছায়। এমন দুর্বল বাজার পরিস্থিতিতেই হঠাৎ করে ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রভাবে আসে অপ্রত্যাশিত চাহিদার ধাক্কা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মল-ক্যাপ কোম্পানিগুলো স্বল্প সময়ে দ্রুত ওঠানামার জন্য পরিচিত। উচ্চ মুনাফার আশায় বিনিয়োগকারীরা যেমন আকৃষ্ট হন, তেমনি ভুল সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিও তৈরি হয়।
সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরস ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম নেয়। নেটিজেনরা বিষয়টিকে ‘ইন্টারনেট হাইপের বাস্তব বাজার প্রভাব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। কেউ কেউ রসিকতা করে বলেন, মোদি–মেলোনির ভাইরাল মুহূর্তই যেন শেয়ার বাজারে অদৃশ্য ঢেউ তুলেছে।
উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদি ও জর্জিয়া মেলোনির নামের প্রথম অংশ মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘মেলোডি’ (Melodi) শব্দটি ট্রেন্ড করছে, যা তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ উপস্থিতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া একটি জনপ্রিয় অনলাইন সংস্কৃতি।


