ঝিনাইদহ (Jhenaidah)-এ এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (Nasiruddin Patwari)-র ওপর হামলার ঘটনায় অবশেষে মামলা নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা পর মামলা গ্রহণের দাবিতে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর থানায় নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহের স্থানীয় এনসিপি নেতা তারেক রেজা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এসএম সোমেনুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ মোট ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা রেকর্ড হওয়ার পরপরই সদর থানা ঘেরাও করে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এসময় থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবকদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে থানার সামনে জড়ো হন।
পরিস্থিতি একপর্যায়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তখন তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে থানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ থানার প্রধান ফটকে গাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে।
পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সরে গেলে পুলিশ পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা শহরের পায়রা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এসময় বক্তব্য দেন বিএনপি (BNP)-র জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টুসহ অন্যান্য নেতারা।
অন্যদিকে মামলার বিষয়ে জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।


