বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় সচল করা, কৃষি উৎপাদনে গতি আনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন প্রাণ ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank)। এই প্যাকেজের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নতুন গতি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মোস্তাকুর রহমান (Mostakur Rahman)। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঘোষিত প্যাকেজের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে দেবে আরও ১৯ হাজার কোটি টাকা। দুই ক্ষেত্রেই সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে।
গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংক খাত দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা ব্যাংক খাত থেকে চলে গেছে, যেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ বলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জামানত বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছিল না। তার মতে, এসব অর্থের একটি বড় অংশ পাচার হয়ে গেছে এবং তা পুনরুদ্ধার করতে সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং রপ্তানিতে গতি ফেরানো এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
ঘোষিত তহবিলের আওতায় বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই (CMSME) খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এছাড়া পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় কটেজ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, চামড়া শিল্প, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, মৎস্য খাত, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও স্টার্টআপ খাতেও অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ করে স্টার্টআপ (Startup) খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমি (Creative Economy)-এর জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সৃজনশীল অর্থনীতির এই অর্থ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআরের আওতায় ব্যয় করা হবে।
