রাজধানীর পল্লবী (Pallabi) এলাকায় শিশু রামিসা আক্তারকে ধ’\র্ষ’\ণের পর হ’\ত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে থানার পুলিশ।
রোববার বিকেলে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Dhaka Chief Metropolitan Magistrate Court)-এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আশিস বিন হাছান।
চার্জশিট জমা দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে রামিসা হ’\ত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকেও আদালতে আনা হয়। এরপর তাদের রাখা হয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায়।
রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলুও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, এদিনই মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হবে।
গত ১৯ মে মঙ্গলবার দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লা’\শ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হ’\ত্যা করার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তখন ঘরের ভেতরেই ছিল। স্বপ্নাকে আটকের পর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ (Narayanganj)-এর ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ওই দিনই পল্লবী থানায় দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুল (Popular Model High School)-এর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতেন সোহেল ও স্বপ্না। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পান। পরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটের অন্যদের সঙ্গে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তারা রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের একটি বালতির মধ্যে তার মাথা দেখতে পান। সেই সময় স্বপ্না আক্তার ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না আক্তার জানান, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধ’\র্ষ’\ণ করে হ’\ত্যা করে সোহেল। পরে লা’\শ গুম করার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে মাথা আলাদা করে এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে। এরপর মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রাখা হয়। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।
এদিকে এ মামলায় আসামিপক্ষের হয়ে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি (Dhaka Bar Association)।
