যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফোনে সরাসরি যুক্ত হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডোনাল্ড ট্রাম্প)। নিজেকে মোদির “বড় ভক্ত” দাবি করে ট্রাম্প বলেন, “ভারত যা চাইবে, তাই পাবে।”
রোববার (২৪ মে) রাতে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (মার্কো রুবিও) এবং ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত সার্জিও গোর। অনুষ্ঠানের মঞ্চের পেছনে স্থাপিত বিশাল পর্দায় ফোনের মাধ্যমে বক্তব্য দেন ট্রাম্প।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি সার্জিও গোরকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনাকে আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।” এরপর উপস্থিত সবার প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। মোদি অসাধারণ। তিনি আমার বন্ধু।”
ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঘনিষ্ঠ। তার ভাষায়, “ভারত শতভাগ আমার এবং আমাদের দেশের ওপর ভরসা করতে পারে। তাদের কোনো সহায়তা প্রয়োজন হলে তারা জানে কোথায় ফোন করতে হবে। তারা এখানেই ফোন করবে।”
নিজ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “আমরা ভালো করছি। আমরা একের পর এক রেকর্ড গড়ছি। আমাদের অর্থনীতি রেকর্ড অবস্থানে রয়েছে, শেয়ারবাজারও রেকর্ড উচ্চতায়। আর ভারত যা চাইবে, তাই পাবে।”
ট্রাম্প এ সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব শেষ করবেন। যখন আপনার কাছে মার্কো, সার্জিওর মতো মানুষ থাকে, তখন আপনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই পাচ্ছেন।”
অনুষ্ঠানের শেষদিকে আবারও মোদিকে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। তাকে জানিয়ে দেবেন, আমি তার একজন বড় ভক্ত।”
এর আগে শনিবার সার্জিও গোর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউস সফরের জন্য মোদিকে আমন্ত্রণ জানান।
এদিকে রুবিওর ভারত সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত বহু অভিবাসীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশনা এবং বিদেশ থেকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে এই সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনায়। রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তার ভাষায়, এই চুক্তি হবে “উপকারী, টেকসই এবং উভয় দেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)-এর সঙ্গে বৈঠকের পর রুবিও জানান, বৈঠকে বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের শুল্কনীতি ও বাণিজ্য উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর দুই দেশ আবারও অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরকে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং বিস্তৃত বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে নতুন আস্থা তৈরির উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
রুবিও বলেন, “এটি শুধু ভারতকে ঘিরে নয়।” তিনি জানান, ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের সঙ্গেও একই ধরনের বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা চলছে। তার মতে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন একটি “আরও ন্যায্য বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা” গড়ে তুলতে চায়।
তিনি আরও বলেন, “ভারত একটি বিশাল অর্থনীতি এবং আমাদের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। এত বড় অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য পুনর্গঠন স্বাভাবিকভাবেই আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।”
সূত্র : এনডিটিভি


