১৫ আগস্ট ঘিরে আ’লীগের ক্ষমতায় ফেরার বার্তা, বদরগঞ্জে টিসিবি কর্মকর্তার গোপন বৈঠকের অ’\ভি’\যোগ

রংপুরের বদরগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’\ওয়ামী লীগ, কৃ’\ষক লীগ, ছা’\ত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে গোপন বৈঠকের অ’\ভি’\যোগ উঠেছে। বৈঠকে আগামী ১৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা এবং আ’\ওয়ামী লীগের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে বদরগঞ্জ পৌরসভার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন চৌধুরী ফার্মেসির ভেতরের একটি কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আয়োজক হিসেবে উঠে এসেছে আবুল হাসনাত চৌধুরী চন্দন (Abul Hasnat Chowdhury Chandan) এর নাম। তিনি বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন (Trading Corporation of Bangladesh-TCB) এর পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এবং রংপুর-২ আসনের সাবেক পলাতক এমপি ডিউক চৌধুরীর ছোট ভাই।

বৈঠকে উপস্থিত আ’\ওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর কয়েকজনকে নিয়ে চন্দন চৌধুরী তার পিতা জাহিদুল হক চৌধুরীর মালিকানাধীন চৌধুরী ফার্মেসির পাশের বৈঠক কক্ষে বসেন। সেখানে বর্তমান বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ড, আ’\ওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

ওই নেতা দাবি করেন, বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী চন্দন চৌধুরীর সামনে বলেন, “বর্তমান বিএনপি সরকারের কার্যক্রম জনগণ পছন্দ করছে না। তাই সামনে ১৫ আগস্টের পর আ’\ওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে। এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।”

তাদের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, ভারত সরকার আ’\ওয়ামী লীগকে সমর্থন দিচ্ছে এবং প্রশাসনের ভেতরেও এমন কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন যারা দলটির প্রতি সহানুভূতিশীল। বৈঠকে নাকি বলা হয়, “আমাদের যতই নিষিদ্ধ করা হোক না কেন, মাঠে নামলে বিএনপি সরকার এক মুহূর্তও টিকতে পারবে না। খুব দ্রুতই রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ (Jubo League) এর উপজেলা সভাপতি এবং জুলাই ছা’\ত্র-জনতা হামলা ও না’\শকতা মামলার আসামি পলিন চৌধুরী, জেলা যুবলীগের সদস্য ও সাবেক বদরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আকরাম আলী সরকার, উপজেলা কৃ’\ষক লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান ভাটিয়া, জেলা আ’\ওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা ছা’\ত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন, পৌর যুবলীগের সদস্য আবু মিয়া এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম পান্নাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নেতাকর্মীরা।

চৌধুরী ফার্মেসির পাশের এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, টিসিবির এই কর্মকর্তা প্রায়ই সরকারি গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। এরপর বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে ফার্মেসির পেছনের বড় কক্ষে দীর্ঘ সময় বৈঠক ও আড্ডা করেন। তবে সেখানে কী আলোচনা হয়, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন (Trading Corporation of Bangladesh-TCB) এর পরিচালক আবুল হাসনাত চৌধুরী চন্দনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে বারবার কেটে দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party-BNP) এর বদরগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ধরনের সভা বা বৈঠক করার এখতিয়ার নেই। যদি গোপনে এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসনের উচিত দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।”

বদরগঞ্জ থানার ওসি জাহিদ হাসান সরকার বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠন আ’\ওয়ামী লীগ, যুবলীগ কিংবা ছা’\ত্রলীগ— কারও কোনো বৈঠক করার অধিকার নেই। গোপনে এমন কার্যক্রমের তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”