ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত সিনেমা ‘রকস্টার’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এবার সরব হয়েছেন জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী ও চিকিৎসক নায়লা নাঈম (Naila Nayem)। সিনেমাটি দেখে নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি একটি দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যা নিয়ে নেটদুনিয়ায় নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
আজমান রুশো (Azman Rusho) পরিচালিত ‘রকস্টার’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান (Shakib Khan)। তার সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন তানজিয়া মিথিলা, সাবিলা নূর ও সুনিধি নায়েক। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের একাংশের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন নায়লা নাঈমও।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘শাকিবিয়ানদের সঙ্গে এভাবে ব্লাফ দেবে পরিচালক, কোনোদিন কল্পনাও করিনি।’
সিনেমার গল্প ও নির্মাণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে নায়লা বলেন, ‘সিনেমায় না ছিল কোনো কাহিনি, না ছিল গল্পের গভীরতা। আমার সঙ্গে যিনি মুভি দেখতে গিয়েছিলেন, তিনি শেষের এক ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন। অথচ “প্রিয়তমা” দেখে কাঁদতে কাঁদতে হল থেকে বের হয়েছিলেন।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘প্রিয়তমা, রাজকুমার, বরবাদ—এ ধরনের সিনেমা করার পর শাকিব খানকে কী ভূতে ধরেছে যে তিনি তার ভক্তদের এমন ফালতু ও অখাদ্য সিনেমা উপহার দিচ্ছেন?’
নায়লার মতে, পুরো সিনেমায় শাকিব খান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। তিনি মন্তব্য করেন, ‘শুধু শাকিব খান না থাকলে আল্লাহর কসম, হল থেকে বের হয়ে টাকা ফেরত চাইতাম।’
এক পর্যায়ে অভিনেত্রী মারিয়া মিম (Maria Mim)-এর একটি আলোচিত মন্তব্যও টেনে আনেন নায়লা। তিনি লেখেন, মারিয়া মিম একসময় বলেছিলেন, শাকিব খানের সঙ্গে নাটকের নায়িকারা প্রেম করছে বলেই তারা বড় সিনেমায় সুযোগ পাচ্ছেন। ‘রকস্টার’ দেখার পর সেই মন্তব্য শতভাগ সত্যি বলে মনে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে নায়লা আরও লেখেন, ‘প্রযোজকের পকেট কেটে কীভাবে ঘোড়ার ডিম বানানো যায়, এই মুভি দেখলে বোঝা যাবে। মিউজিককে কেন্দ্র করে সিনেমা, অথচ নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখযোগ্য কোনো মিউজিকই নেই।’
স্ট্যাটাসের শেষাংশে শাকিব খানের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘একজন ভক্ত হিসেবে আমি হলে যাই আপনার সিনেমা দেখে হাসতে, কাঁদতে এবং পরিবার নিয়ে আনন্দ করতে। পরিচালক ও গল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হোন।’
একই সঙ্গে তিনি হিমেল আশরাফ (Himel Ashraf), মেহেদী হাসান হৃদয় (Mehedi Hasan Hridoy) এবং রায়হান রাফী (Raihan Rafi)-র মতো নির্মাতাদের উদাহরণ টেনে বলেন, এসব নির্মাতা শাকিব খান এবং দর্শকদের রুচি ও প্রত্যাশা ভালোভাবে বোঝেন।
সবশেষে নায়লার আক্ষেপ, ‘টিকিটের টাকা এবং পপকর্ন-ড্রিংকসের টাকা—সবই বৃথা গেল।’


