রামিসা হ’\ত্যা মামলায় তদন্ত শেষ, বিচার দ্রুত শেষ করার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের

রামিসা হ’\ত্যা মামলায় প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং আদালতে অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ চারটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ বিচারপর্বে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে মামলার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু (Azizur Rahman Dulu) বলেন, ‘মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে দায়িত্ব পালন করব। বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নেবে।’

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। এই মামলায় তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই তার প্রধান কাজ।

অন্যদিকে মামলার রায় ও তা কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড (Dhaka District Legal Aid)-এর নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই বলেন, মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রায় ঘোষণার পর সেটি বাস্তবায়নের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চ আদালতের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রায় কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। নিম্ন আদালতের রায়ের পর কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ পাওয়া গেলে প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগোতে পারে। অন্যথায় ডেথ রেফারেন্সসহ বিভিন্ন আইনি ধাপ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুল (Popular Model High School)-এর দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির ভেতর তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জ (Narayanganj) থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপের অপেক্ষায় আছেন।