মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি আইআরজিসির, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। সোমবার (১ জুন) ভোরে পরিচালিত এই হামলার কথা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে ইরানের এলিট বাহিনীটি। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে হামলার শিকার মার্কিন ঘাঁটিটির অবস্থান কোন দেশে— সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, এর আগে ইরানের হরমুজগান (Hormozgan) প্রদেশের সিরিক দ্বীপে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ টাওয়ার মার্কিন বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তাদের দাবি, যে মার্কিন ঘাঁটি থেকে ওই হামলা পরিচালিত হয়েছিল, পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে ঠিক সেই ঘাঁটিতেই এবার আঘাত হানা হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি (Mehr News Agency)-তে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং পরিকল্পিত সব টার্গেটে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। বাহিনীটির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ব্যবহৃত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তাও দিয়েছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব আরও ভিন্ন মাত্রা ও প্রকৃতির হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (U.S. Department of Defense) বা অন্য কোনো মার্কিন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম (U.S. Central Command) জানিয়েছিল, হরমুজগান প্রদেশের গরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের রাডার এবং ড্রোনের কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালানো হয়েছে।

মার্কিন অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পাল্টা হামলার এই দাবি সামনে এলো। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময়ের আলোচনা সত্ত্বেও চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা নতুন করে উঁকি দিচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি