‘গু’\ম, খু’\ন ও ভোট চুরির বৈধতা দেওয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা?’—সংসদে প্রশ্ন হাসনাত আবদুল্লাহর

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাংবাদিক পরিচয়ে যারা গু’\ম, খু’\ন, ভোট চুরি এবং অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বৈধতা ও জনসমর্থন তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ প্রশ্ন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ (Hasnat Abdullah)।

রোববার (৭ জুন) সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা পেশায় টিকে থাকা ছিল কঠিন। তবে সেই সময়েও অনেক পেশাদার সাংবাদিক দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে গেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে কিছু গণমাধ্যম ও নামধারী সাংবাদিক গণহ’\ত্যা, ভোট চুরি, গু’\ম, খু’\ন এবং ব্যাংক ডাকাতির মতো ঘটনার বৈধতা ও সম্মতি উৎপাদনে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে অতীতে কিছু গণমাধ্যমে নেতিবাচক ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।

তিনি বিশেষভাবে বসুন্ধরা গ্রুপ (Bashundhara Group)-এর ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম এখনও আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের কিছু সাংবাদিককে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে।

সংসদ সদস্য বলেন, “যারা গু’\ম–খু’\নের বৈধতা উৎপাদন করেছে, ভোট চুরির বৈধতা উৎপাদন করেছে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা মানুষদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে, সেই সব নামধারী সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও জানতে চাই।”

জবাবে ইয়াসির খান চৌধুরী (Yasir Khan Chowdhury), তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী, বলেন যে সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী কিংবা চাকরিজীবী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।

তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করার চেষ্টা করবে বা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, সে যে-ই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক (Zainal Abdin Faruk) সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, বর্তমানে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অনেকেই সাংবাদিক পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন, অথচ তাদের অনেকেই পেশাগতভাবে সাংবাদিক নন। ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই নানা ধরনের তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) ও ডিসইনফরমেশন (অপতথ্য) মোকাবিলায় কাজ করছে। যারা নিবন্ধিত সাংবাদিক নন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে কাজ চলছে।

অন্যদিকে, লুৎফুর রহমান (Lutfur Rahman)-এর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের অনুমোদনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এই নীতিমালার আলোকেই সব অনলাইন মিডিয়া ও পোর্টালকে অনুমতি দেওয়া হবে।

এদিকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার মনির (Nilufar Monir)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন (Zahir Uddin Swapan) জানান, ঢাকা থেকে বর্তমানে ৫৮৫টি দৈনিক, ৩৬৩টি সাপ্তাহিক এবং ২৯৬টি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এর মধ্যে মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক পত্রিকা ২৮৮টি, সাপ্তাহিক ৫৬টি এবং মাসিক ২৩টি।