লালন মাজারে ‘সংস্কৃতির নামে অনৈতিকতা’ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন, জবাবে মাদকমুক্ত বাংলাদেশের পরিকল্পনার কথা বললেন মন্ত্রী

কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মাজার এলাকায় সংস্কৃতির আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের কারবার চলছে বলে দাবি করে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চেয়েছেন সংসদ সদস্য আমির হামজা (Amir Hamza)। জাতীয় সংসদে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংস্কৃতির নামে সেখানে যেসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো বন্ধে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কোনো কার্যকর উদ্যোগ আছে কি না।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী (Nitai Roy Chowdhury)-এর কাছে এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য।

আমির হামজা বলেন, লালন সাঁইয়ের মাজার (Lalon Shah Shrine) এলাকাকে মাদকমুক্ত করার জন্য সরকারের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি না, সেটি জানা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে লালন সাঁইয়ের জন্ম ও মৃ’\ত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর তিন দিন করে মোট ছয় দিনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে মাজার এলাকাকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান তিনি।

জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শুধু কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের স্মৃতিবিজড়িত মাজার এলাকা নয়, বরং পুরো দেশকে মাদকমুক্ত করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে মাদক নির্মূলে বর্তমান সরকার কাজ করছে এবং এ লক্ষ্যে বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক নির্মূলের বিষয়টি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার মতে, সমাজে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন আরও সহজ হবে।

আলোচনার একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, গত ১৮ বছরে দেশে যে অন্ধকার সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, সেই সময়েই মাদকের বিস্তার ব্যাপক আকার ধারণ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময়ের অনেক রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, অতীতের বিভিন্ন নীতির কারণে দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সমাজকে এক ধরনের অন্ধকার পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের তরুণ সমাজকে মাদকের প্রভাব থেকে মুক্ত করে একটি ইতিবাচক ও উৎপাদনমুখী সমাজ গড়ে তুলতে চায়। অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে দেশকে পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।