তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা, শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা

নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ কিংবা জার্মানের মতো ভাষাগুলোর মধ্য থেকে অন্তত একটি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury) এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (Fourth Industrial Revolution)-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাক্রমকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। নতুন কারিকুলামে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তৃতীয় ভাষা শিক্ষার উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে একাধিক প্রণোদনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ভাষাজ্ঞান অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ গ্রহণ করতে চাইলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পাবে। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ বিনামূল্যে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ (Bangladesh)-এর প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এবং শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal) কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন শিক্ষা কাঠামো শিক্ষার্থীদের মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী কারিগর, প্রযুক্তিবিদ, কৃষি উদ্যোক্তা কিংবা গবেষক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। দেশ ও বিদেশ—উভয় ক্ষেত্রেই তাদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বিকাশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি মনে করেন।

এছাড়া নারী শিক্ষা (Women’s Education) প্রসারে সরকারের বর্তমান উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি জানান, নারীদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম আগের মতোই চালু থাকবে।