পুলিসিক-বালোগানের দাপটে বিরতির আগেই বিধ্বস্ত প্যারাগুয়ে, ৩ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম (SoFi Stadium)-এ ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র (United States)। সেই আগ্রাসী ফুটবলের ফলও মিলেছে দ্রুত। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই প্যারাগুয়ে (Paraguay)-কে ৩-০ গোলে পিছিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়েস্টন ম্যাককেনি (Weston McKennie)-র পাস পেয়ে আক্রমণে ওঠেন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক (Christian Pulisic)। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি আবার ম্যাককেনির উদ্দেশে বল বাড়াতে চেয়েছিলেন। তবে সেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটান প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার বোবাদিয়া। তার স্পর্শেই বল জড়িয়ে যায় নিজেদের জালে, আর স্বাগতিকরা পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত সূচনা।

১৪ মিনিটে এনসিসোর একটি প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে প্যারাগুয়ে সাময়িকভাবে আক্রমণের ইঙ্গিত দিলেও তা আর ধারাবাহিকতায় রূপ নিতে পারেনি। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের দখলে।

দ্বিতীয় গোলটি আসে দারুণ এক দলগত আক্রমণ থেকে। বাম প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে পুলিসিক নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন ফ্লোরিয়ান বালোগান (Folarin Balogun)-এর কাছে। ডিফেন্স লাইনের পেছন থেকে ছুটে এসে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন এই ফরোয়ার্ড।

এর আগে অবশ্য বালোগানের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছিল। ম্যাককেনির পাস থেকে বল পেয়ে তিনি জাল খুঁজে পেলেও রিপ্লেতে দেখা যায় পাস গ্রহণের সময় তিনি অফসাইড অবস্থানে ছিলেন।

তবে হতাশ না হয়ে প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও জ্বলে ওঠেন বালোগান। বক্সের ভেতরে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে থেকেও অসাধারণ দক্ষতায় তাদের পরাস্ত করেন তিনি। এরপর ঠান্ডা মাথায় বাঁ দিকের উপরের কোণা লক্ষ্য করে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্রের ৩-০ গোলের স্বস্তিদায়ক লিড নিয়ে।

স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারত। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে রিচার্ডসের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। আর ৪৫ মিনিটে মালিক টিলম্যানের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল।

প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পুলিসিকের সৃজনশীলতা, ম্যাককেনির মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণ এবং বালোগানের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্যারাগুয়েকে কার্যত কোণঠাসা করে রেখেছে স্বাগতিকরা।