দেশের জেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলা সদর হাসপাতালে নতুন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু হচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় জনবলসহ এসব ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (Ministry of Health and Family Welfare) জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট জেলার শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সংকটাপন্ন রোগীরা নিজ নিজ এলাকাতেই উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। ফলে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী কিংবা বড় শহরের হাসপাতালে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে আসবে।
যেসব হাসপাতালে নতুন আইসিইউ ইউনিট চালু হচ্ছে সেগুলো হলো—মুন্সীগঞ্জ (Munshiganj) ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, মাদারীপুর (Madaripur) জেলা হাসপাতাল এবং বাগেরহাট (Bagerhat) জেলা হাসপাতাল।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি আইসিইউ ইউনিটে পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব ইউনিট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সহায়ক জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, জেলা পর্যায়ে আধুনিক সংকটাপন্ন চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের ফলে শুধু স্বাস্থ্যসেবার মানই উন্নত হবে না, বরং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সম্ভাব্য মহামারির সময় দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
জরুরি রেসপন্স ও মহামারি প্রস্তুতি প্রকল্প (Emergency Response and Pandemic Preparedness Project-ERPP)-এর মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যখাতের জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশের প্রস্তুতি আরও কার্যকর করা।
জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণকে প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও উন্নত সংকটাপন্ন চিকিৎসাসেবার আওতায় আরও সহজে আসতে পারবেন।
