আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলায় ‘কঠিন শাস্তি’র হুঁশিয়ারি

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Ad-din Medical College Hospital)-এর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল (Sardar Md. Sakhawat Hossain Bokul)। তিনি বলেছেন, হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও মেডিকেল কলেজ বন্ধ করা হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (International Mother Language Institute)-এ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ করেছি কিন্তু মেডিকেল কলেজ বন্ধ করিনি। শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে প্র্যাকটিস করতে পারবে। তাদের আরও হাসপাতাল আছে, চাইলে সেখানে নিয়ে যেতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অমানবিক সেবার কারণেই আমরা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, সরকার যেকোনো মূল্যে মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবহেলা কিংবা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

তার ভাষায়, “দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কেউ কোনো ধরনের খারাপ কিছু বা অবহেলা করলে তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

দেশে চলমান হাম পরিস্থিতি ও টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, হামের টিকাদান কর্মসূচিতে সরকার শতভাগেরও বেশি সফলতা অর্জন করেছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “হামের টিকাদানে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। পুরো দেশে আমাদের যে টার্গেট ছিল, তার চেয়েও বেশি অর্জন করেছি। টিকাদান আমরা এক মুহূর্তের জন্যও থামিয়ে রাখিনি। ঈদের আগে থেকে প্রতিদিন আমরা ডেকে ডেকে শিশুদের টিকা দিয়েছি, এই নিয়ে ব্যাপক মাইকিংও করা হয়েছে। সরকারের ইপিআই কর্মসূচি পুরোদমে চলমান রয়েছে।”

হামের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, রোগটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে আক্রান্ত ও মৃ’\ত্যুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তার তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০০ থাকলেও পরদিন তা এক হাজারে পৌঁছায়। অনেক ক্ষেত্রে অন্য ধরনের জ্বরকেও হামের উপসর্গ হিসেবে ধরা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমি বলবো না হামে কেউ ম’\রা যাচ্ছে না, দুই-একজন ম’\রা যাচ্ছে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে হামে নিশ্চিত মৃ’\ত্যুর সংখ্যা শূন্য রয়েছে। গত ২০ তারিখে দেওয়া বিশেষ টিকার অ্যান্টিবডি তৈরি হতেও অন্তত এক মাস সময় লাগে। আমরা যদি সময়মতো টিকাদান কার্যক্রম না চালাতাম এবং চিকিৎসক-নার্সরা দিনরাত সেবা না দিতেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।”

এর আগে মূল আলোচনা সভায় তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, তামাক একটি মারাত্মক আসক্তি, যা মানবদেহের প্রায় সব অঙ্গের ক্ষতি করে। ধূমপান ও জর্দা সেবনের কারণে মুখগহ্বর, গাল ও দাঁতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, “তামাক মানুষের ঘুম ও ক্ষুধা নষ্ট করে, ওজন কমিয়ে দেয় এবং শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে আক্রান্ত করে। তামাক ও জর্দা খাওয়ার কারণে গালে ও দাঁতে ক্যানসার হচ্ছে। তামাকের হাত ধরেই সমাজ এখন মরণ নেশার দিকে ধাবিত হচ্ছে।”

তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনের কিছু দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি মনে করেন, আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক অপরাধী শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী (Md. Kamruzzaman Chowdhury) এবং অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস (Prof. Dr. Prabhat Chandra Biswas) সহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।