ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন পুঠিয়া রাজবাড়ী (Puthia Rajbari) পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন (Brent T. Christensen)। প্রাচীন জমিদারি স্থাপত্য, মন্দির এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখে তিনি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা জানান।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে পুঠিয়া রাজবাড়ীতে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে তিনি রাজবাড়ী প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাদুঘর, রানীরঘাট, গোবিন্দ মন্দির (Govinda Temple), আন্নিক মন্দির এবং শিব মন্দির (Shiva Temple)সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি স্থাপনাগুলোর নির্মাণশৈলী, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং বর্তমান সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। বিভিন্ন স্থাপনার নকশা ও কারুকাজও গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত বলেন, পুঠিয়া রাজবাড়ী বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তাঁর মতে, এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির আরও উন্নয়ন ও যথাযথ সংরক্ষণ প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস (U.S. Embassy)-এর পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূতের সফরকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ী এলাকায় নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সফরের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। অনেকেই তাকে একনজর দেখতে রাজবাড়ী প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। পুরো পরিদর্শনজুড়ে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর প্রতি তাঁর আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস ছিল স্পষ্ট।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান, পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম, হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকসহ রাজবাড়ীর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
স্থানীয়দের ধারণা, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুঠিয়া রাজবাড়ীর পরিচিতি আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক এই স্থাপনার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হতে পারে।


