ইংল্যান্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জয়ের রাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন হ্যারি কেইন (Harry Kane)। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে ৪-২ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতেই। তবে এই ম্যাচটি শুধু ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য নয়, কেইনের ব্যক্তিগত অর্জন ও একাধিক রেকর্ড ভাঙার কারণেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ম্যাচের ১২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন কেইন। প্রথম শটটি ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ (Dominik Livakovic) রুখে দিলেও গোললাইন ছেড়ে আগেভাগে বেরিয়ে আসার কারণে পুনরায় পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। দ্বিতীয় সুযোগে কোনো ভুল না করে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
এই গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন একটি রেকর্ড নিজের নামে লিখে নেন কেইন। টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপে তার পেনাল্টি গোলের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে। ফলে চার গোল নিয়ে থাকা লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-কে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেন তিনি।
তবে রেকর্ডের যাত্রা সেখানেই থেমে থাকেনি। ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া সমতায় ফেরার পর আবারও দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন কেইন। দুর্দান্ত এক হেড থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি। সেই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ৮১-তে।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ১০ গোল করে দেশটির কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার (Gary Lineker)-এর সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডেও ভাগ বসান এই স্ট্রাইকার। ফলে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় এখন সমান উচ্চতায় অবস্থান করছেন দুই প্রজন্মের দুই কিংবদন্তি।
প্রথম গোলটি কেইনকে আরেকটি বিশেষ মাইলফলকও এনে দেয়। ডেভিড বেকহ্যাম (David Beckham)-এর পর মাত্র দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে তিনটি পৃথক বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই তারকা।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও ঈর্ষণীয়। বায়ার্ন মিউনিখ (Bayern Munich)-এ যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৭৮ ম্যাচে সরাসরি ২০০ গোলে অবদান রেখেছেন কেইন। এর মধ্যে রয়েছে ১৬৮টি গোল এবং ৩২টি অ্যাসিস্ট।
গোল, রেকর্ড এবং নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি হ্যারি কেইনের ক্যারিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকল। আর মেসিকে ছাড়িয়ে নতুন বিশ্বকাপ রেকর্ড গড়ে তিনি প্রমাণ করলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোলমেশিনদের একজন হিসেবে তার অবস্থান কতটা দৃঢ়।


