চট্টগ্রাম নগরীর বক্সিরহাট এলাকার ব্যবসায়ী স্বপন ঘোষ (Swapan Ghosh) ফেসবুক লাইভে এসে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বিষপান করে আ’\ত্মহ’\ত্যার চেষ্টা করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (Chattogram Medical College) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার নিজ বাসা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অভিযোগগুলো তুলে ধরেন স্বপন ঘোষ। লাইভ সম্প্রচারের একপর্যায়ে তিনি বিষপান করেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি করেন এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক (Nurul Alam Ashik) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বক্সিরহাট এলাকার বাসিন্দা স্বপন ঘোষ বিষপানে আ’\ত্মহ’\ত্যার চেষ্টা করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
জানা গেছে, বক্সিরহাট এলাকার ‘স্বপন ঘোষ অ্যান্ড সন্স (Swapan Ghosh and Sons)’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক স্বপন ঘোষ। বিষপানের আগে ফেসবুক লাইভে তিনি স্থানীয় শমসের আলী (Shamsher Ali), আইয়ুব আলী ও শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, গত বছরের ৫ আগস্টের পর ভাড়ার নামে তার কাছে অর্থ দাবি করা হয়। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে হয়রানি করা হয় এবং পাঁচ মাস কারাভোগ করতে হয়েছে।
লাইভে স্বপন ঘোষ আরও দাবি করেন, দোকানটির প্রকৃত মালিক নূর নাহার বেগম (Nur Nahar Begum) নামের এক নারী। তিনি কারাগারে থাকাকালে তার স্ত্রীকে দিয়ে একটি ভাড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্টরা এটিকে ভাড়া নয়, বরং চাঁদা হিসেবেই দিতে হবে বলে জানান।
বিষপানের আগে সম্প্রচারিত ভিডিওতে স্বপন ঘোষ তার মৃত্যুর জন্য উল্লিখিত তিন ব্যক্তিকে দায়ী করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


