যুদ্ধে যৌন সহিংসতা নির্মূলবিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ (United Nations)-এ আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন (Danny Danon) এবং সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। বৈঠক চলাকালে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রচলিত সীমা ছাড়িয়ে প্রকাশ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ড্যানন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন (Pramila Patten)-এর পদত্যাগ দাবি করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো ইসরাইল (Israel)-কে সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতার অভিযোগে বৈশ্বিক কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই ড্যাননের এই অবস্থান আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে তার বক্তব্যের সময় আপত্তি জানান বৈঠকে উপস্থিত জাতিসংঘের আরেক কর্মকর্তা ভ্যানেসা ফ্রেজিয়ার (Vanessa Frazier)। তিনি মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সম্প্রতি প্রকাশিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের প্রণেতা।
ফ্রেজিয়ার ড্যাননের বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করে তাকে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করা প্রমাণ এবং প্রতিষ্ঠিত তথ্যের ভিত্তিতেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ সপ্তাহে প্রকাশিত ফ্রেজিয়ারের প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও অধিকার লঙ্ঘনের নানা ঘটনার উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের অভিযোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও বৈশ্বিক কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
প্রতিবেদনটির বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস (António Guterres) মন্তব্য করেন, শিশুদের বিরুদ্ধে অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ‘উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে’। তিনি এ ধরনের প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এর আগেই শিশুদের বিরুদ্ধে অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতিসংঘের বহুল আলোচিত ‘লিস্ট অব শেম’-এ ইসরাইলের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পর জাতিসংঘ ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা


