আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোড (Red Road)-এ আয়োজিত বৃহৎ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রোববার হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে উদযাপিত হয় দিনটি। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই এলাকায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং রেড রোডে নির্মাণ করা হয় সুবিশাল মঞ্চ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-এর রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে যোগচর্চার প্রসারে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যোগব্যায়ামকে নতুনভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
নিজের বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলার মাটিতে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করতে পারা তার জন্য বিশেষ আনন্দের বিষয়। তিনি যোগকে মানবজীবনের সার্বিক বিকাশ, মানসিক প্রশান্তি এবং সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস মানুষের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখে এবং জীবনে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় কার্যকর অবদান রাখে। তার ভাষায়, যোগ এমন এক অনুশীলন যার কোনো বয়সসীমা নেই; বরং এটি মানুষে মানুষে সংযোগ ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি করে।
রেড রোডের মূল আয়োজন ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মালদহ (Malda)-এর সত্য চৌধুরী স্টেডিয়াম এবং দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির (Dakshineswar Kali Temple) সংলগ্ন গঙ্গার ঘাটেও যোগাভ্যাস ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তবে অনুষ্ঠানটি ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, অতীতে ঈদের নামাজের জন্য রেড রোড ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন অংশে প্রশ্ন উঠেছে।
সমালোচকদের মতে, জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ও নীতিগত সামঞ্জস্য বজায় রাখা প্রয়োজন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা দেখা গেছে।
তথ্যসূত্র: The Times of India


