‘এটা শাহবাগ নয়’ মন্তব্যে আপত্তি সারজিস আলমের, জুলাই আন্দোলনের ভূমিকা স্মরণ করালেন এনসিপি নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (Sarjis Alam) সংসদে ব্যবহৃত একটি মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এটা শাহবাগ নয়’—এই ধরনের বক্তব্য যে সুরে বলা হয়, তা মূলত ‘জুলাইয়ের রাজপথ’-কে খাটো করার শামিল।

রোববার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি মাননীয় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে উদ্দেশ করে লেখেন, সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ (Hasnat Abdullah) কিংবা আব্দুল হান্নান মাসউদ (Abdul Hannan Masud) এমপির কোনো বক্তব্য কারও পছন্দ না হলে অথবা সংসদীয় বিধি অতিক্রম করলে যেভাবে বলা হয়, ‘এটা শাহবাগ নয়’, সেই টোনের মধ্যেই জুলাই আন্দোলনের রাজপথকে ছোট করে দেখার প্রবণতা রয়েছে।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণ অতীতে বিএনপি (BNP)-র প্রতি আস্থা হারানোর কারণে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত ও ভোট চুরির অভিযোগে আলোচিত নির্বাচনের পরও দলটির আহ্বানে ব্যাপকভাবে রাজপথে নামেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হতাশা ও আস্থাহীনতার কারণে জনগণের একটি বড় অংশ বিএনপির নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রতি সাড়া দেয়নি।

সারজিস আলম দাবি করেন, ২৮ অক্টোবরের কর্মসূচিতে বিএনপি কয়েক ঘণ্টার বেশি রাজপথে টিকে থাকতে না পারায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে দলটির রাজনৈতিক প্রভাবের সময় শেষের দিকে। এমনকি ২০২৪ সালের নির্বাচনের পরও শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি ভবিষ্যতে আবার প্রথম সারির রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ফিরে আসতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নও মানুষের মনে জোরালো হয়ে উঠেছিল।

এরপরই তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। পোস্টে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ চত্বর পেরিয়ে যে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই জুলাইয়ের রাজপথই পরবর্তীতে রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে।

সারজিসের ভাষ্য, জুলাইয়ের সেই গণআন্দোলনই বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করা থেকে শুরু করে প্রবাসে থাকা নেতাদের দেশে ফেরার পরিবেশ এবং স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার হওয়ার সুযোগও ওই আন্দোলনের ফলশ্রুতির অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।