ভিনিসিউসের বাতিল গোল ঘিরে বিতর্ক, রেফারির সিদ্ধান্তকে ‘স্পষ্ট ভুল’ বললেন সাবেক কর্মকর্তা

বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচে ভিনিসিউস জুনিয়র (Vinicius Junior)-এর একটি গোল বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ম্যাচটিতে ব্রাজিল ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় পেলেও ২৫তম মিনিটের একটি সিদ্ধান্ত এখনো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ম্যাচের ২৫তম মিনিটে স্কটিশ ডিফেন্ডার জ্যাক হেন্ড্রি (Jack Hendry)-র কাছ থেকে দারুণ এক ট্যাকলের মাধ্যমে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ভিনিসিউস জুনিয়র। এরপর দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। গোল হওয়ার পর মাঠে উপস্থিত সমর্থক এবং ব্রাজিল দলের খেলোয়াড়রা দ্বিতীয় গোলের উদযাপনে মেতে ওঠেন।

তবে সেই উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোলের কিছুক্ষণ পরই ভিএআর থেকে রেফারিকে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলের দখল নেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ভিনিসিউসের পা হেন্ড্রির পায়ে সামান্য স্পর্শ করেছিল।

এরপর মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোস (Cesar Ramos) মনিটরে ভিডিও রিভিউ দেখে ভিনিসিউসের বিরুদ্ধে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন এবং গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন। তার এই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনামুখর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিবিসির নিয়ম বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক প্রিমিয়ার লিগ ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞ অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ড্যারেন ক্যান (Darren Cann)। ম্যাচ চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচারে তিনি রেফারির সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মন্তব্য করেন।

ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ড্যারেন ক্যান বলেন, তার মতে স্কটল্যান্ড কিছুটা সৌভাগ্যের সুবিধা পেয়েছে। বল স্পর্শ করার আগে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সামান্য সংযোগ হয়েছিল ঠিকই, তবে সেটিকে ভিনিসিউস জুনিয়রের ফাউল হিসেবে দেখার মতো পরিস্থিতি ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ভিনিসিউস নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন এবং ডিফেন্ডারই এসে তার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। তাই গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন। ক্যানের মতে, এই সিদ্ধান্তে স্কটল্যান্ড অবশ্যই স্বস্তি পেয়েছে, তবে সেটি অনেকটাই সৌভাগ্যের কারণে।

ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জয় পেলেও ভিনিসিউসের বাতিল হওয়া গোল এবং ভিএআরের হস্তক্ষেপ ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশও সিদ্ধান্তটি নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করছেন, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।