জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ’\হী’\দদের হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যঙ্গ করার অভিযোগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (Bangladesh University of Business and Technology-BUBT) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক জিনাত জোয়ার্দার রিপা (Zeenat Joardar Ripa)-কে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে ঘটনাটি রোববার বড় আলোচনায় আসে।
রোববার বিইউবিটির রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ (Dr. Md. Harun-Or-Rashid) স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বিইউবিটি কর্মচারী আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা বিধি, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা নীতি লঙ্ঘন এবং জুলাই বিপ্লবের (July Revolution) চেতনাকে অপমান করার অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে এই বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়া, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ এবং বিইউবিটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ, প্রশাসনিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিনাত জোয়ার্দার রিপা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে ফিরতে পারবেন না।
বরখাস্তকালীন সময়েও তাকে বিইউবিটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয়, তার কাছে থাকা সব দাপ্তরিক নথি, চাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য যে কোনো সম্পত্তি অবিলম্বে রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দিতে হবে। প্রশাসনের এই ভাষা থেকেই বোঝা যায়, অভিযোগটিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবেই দেখছে।
এর আগে জিনাত জোয়ার্দার রিপার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের রূপনগরে (Rupnagar, Mirpur) বিইউবিটির প্রধান ফটকের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক জিনাত জোয়ার্দার রিপা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই-আগস্টে শিশুদের ওপর হেলিকাপ্টারযোগে গু’\লি করে হ’\ত্যা’\র ঘটনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তাদের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের দোসর এবং সেই মতাদর্শ ধারণ করেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে বুকে বুলেট নিয়ে আমাদের যে ভাইয়েরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিলেন, সেই বীর শ’\হী’\দদের ত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।’
তারা আরও বলেন, ‘শ’\হী’\দ সুজন মাহমুদ ও শ’\হী’\দ তাহমিদ আব্দুল্লাহ আমাদের বিইউবিটির অহংকার। নিজেদের জীবন দিয়ে তারা আমাদের ক্যাম্পাস ও মিরপুরকে সম্মানিত করেছেন। অথচ এই ক্যাম্পাসেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শ’\হী’\দদের রক্ত নিয়ে উপহাস করার দুঃসাহস দেখালেন। যাদের মনে শ’\হী’\দদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের মতো মানুষের কোনো পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে থাকার অধিকার নেই।’
শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে ক্ষোভের পাশাপাশি গভীর আঘাতের সুরও স্পষ্ট ছিল। তাদের ভাষ্য, জুলাই বিপ্লব শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি রক্ত, ত্যাগ ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি অধ্যায়। সেই অধ্যায়কে নিয়ে উপহাস কিংবা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না—বিশেষ করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থাকা কারও কাছ থেকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত জোয়ার্দার রিপা বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। কারা কী করছে; আমি এ ব্যাপারে অবগত নই।’

