আর্জেন্টিনা (Argentina) ও মিসর (Egypt)-এর মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচ শেষ হলেও বিতর্ক যেন মাঠ ছাড়ছে না। বিশেষ করে ভিএআরের সহায়তায় মিসরের বাতিল হয়ে যাওয়া গোলটি ঘিরে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সেই সমালোচনার কাতারে এবার সরাসরি যোগ দিয়েছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি কোচ হোসে মরিনহো (Jose Mourinho)।
ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর দারুণ এক গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করে দেন রেফারি। গোলের বিল্ডআপে মারওয়ান আত্তিয়ার সঙ্গে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সং’\ঘ’\র্ষকে ফাউল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেই কারণেই গোলটি বাতিল করা হয়। অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয় এবং মিসরের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মরিনহো। তার ভাষায়, এটি ছিল ‘দিনের আলোয় ডা’\কা’\তি’। মরিনহো বলেন, ‘ফুটবল কোথায় যাচ্ছে, এটা লজ্জার। যদি ফাউলই হয়ে থাকে, তাহলে খেলা তখনই থামানো উচিত ছিল। খেলা চলতে দেওয়া, গোল হতে দেওয়া, তারপর আবার ফিরে গিয়ে গোল বাতিল করা—এটা আমি বুঝি না।’
শুধু গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়, ভিএআর (VAR)-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই পর্তুগিজ কোচ। তার দাবি, আর্জেন্টিনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা খুঁটিয়ে দেখা হলেও মিসরের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।
মরিনহোর কথায়, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যখন খেলবেন, তখন শুধু মাঠের ১১ জন ফুটবলারকে হারালেই হবে না। আপনাকে হারাতে হবে বাঁশিকেও, ভিএআর কক্ষকেও এবং পুরো টুর্নামেন্টের চিত্রনাট্যকেও।’
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভিএআরের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাই একমত নন। ব্রাজিলের গ্লোবোর সাবেক রেফারি ও বিশ্লেষক পিসি অলিভেইরা (PC Oliveira) মনে করেন, বিল্ডআপে আত্তিয়ার ফাউল ছিল স্পষ্ট এবং ভিএআরের হস্তক্ষেপ আইনসম্মত ছিল। তাই গোল বাতিলের সিদ্ধান্তও সঠিক বলেই মনে করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-র নেতৃত্বে ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেই জয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও রেফারিং ও ভিএআরের বিতর্কই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।


