প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর মরদেহ আসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Dhaka Medical College Hospital)-এর মর্গে। আইন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত একটি সরকারি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সেই সরকারি প্রক্রিয়াই যেন চলছে এক ধরনের ‘প্যাকেজ সিস্টেমে’।
অভিযোগ অনুযায়ী, মর্গকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে মরদেহে গোসল করানো, কাফন, কফিন এবং পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। আর এসব সেবার নামে স্বজনদের সামনে শুরুতেই ধরা হয় প্রায় ২০ হাজার টাকার প্যাকেজ। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে সেই অঙ্ক নেমে আসে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকায়। আপনজন হারানোর শোকের মধ্যে এমন আর্থিক চাপ অনেক পরিবারকেই আরও অসহায় করে তোলে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ ঘিরে তিন সদস্যের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগের নেপথ্যে উঠে এসেছে সেকান্দার নামে এক ব্যক্তির নাম। তিনি একসময় মর্গের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী ৩২ বছরের চাকরিজীবন শেষ হলেও মর্গকে ঘিরে নিজের পুরোনো প্রভাব ও আধিপত্য তিনি ছাড়েননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কাজ করেন সেকান্দরের আপন ভাই বাবুল ও রামু। এর মধ্যে বাবুল হাসপাতালের অফিস সহকারী হলেও অভিযোগ রয়েছে, তিনি অধিকাংশ সময় কাটান মেডিকেলের মর্গেই। শুধু সরকারি কর্মচারী নয়, এই মর্গকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটে নারী-পুরুষসহ আরও অন্তত ৭ থেকে ৮ জন বহিরাগত সদস্য যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা সহযোগিতার নামে শোকাহত স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
একদিকে আপনজন হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে মর্গে এসে অপ্রত্যাশিত খরচের চাপ—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্বজনরা। সরকারি প্রক্রিয়ার ভেতরেই যখন টাকার হিসাব ঢুকে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
তবে ময়নাতদন্তের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (Dhaka Medical College)-এর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মমতাজ আরা (Momtaz Ara)। তিনি বলেন, মর্গকে ঘিরে এমন অনিয়মের অভিযোগ তার জানা নেই।
মমতাজ আরা বলেন, “আমি তো দায়িত্ব নিয়েছি কয়েকদিন হলো। এর মধ্যে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, আমার জানা নেই। এখানে খরচের কোনো প্রশ্নই নাই। খরচ হচ্ছে পুলিশের ব্যাপার। পুলিশ মরদেহ নিয়ে আসবে। পুলিশ সবকিছু করবে, এটা তাদের দায়িত্ব। আমাদের দায়িত্ব শুধু ময়নাতদন্ত করা।”
রাজধানীর সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Sir Salimullah Medical College Mitford Hospital)-এর মর্গেও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির অভিযোগ রয়েছে। ওই মর্গে শ্যামল নামে একজন কাজ করেন, যিনি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। মর্গকে ঘিরে অনিয়মের বিষয়ে তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। বরং এ বিষয়ে ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
