বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনামলের দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের জনসাধারণের ওপর চেপে বসা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ (Bangladesh Police) বাহিনীর একটি নির্দিষ্ট দলদাস অংশ অন্যতম প্রধান লাঠিয়াল ও খু’\নি বাহিনীর ভূমিকায় কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্য হয়েও এসব কর্মকর্তা বিরোধী মত দমন ও ভিন্নমতের কণ্ঠ স্তব্ধ করার পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) এবং দেশের স্বাধীনতাকামী ও গণতন্ত্রমনা মানুষের রাজনৈতিক কণ্ঠরোধে তাদের বর্বরতা অতীতের বহু নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর গ’\ণহ’\ত্যা চালানোর পেছনে অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন এই ‘জল্লাদ’ কর্মকর্তারা। নিরস্ত্র ছাত্র ও সাধারণ মানুষের বুকে সরাসরি স্না’\ইপার এবং স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের গু’\লি চালিয়ে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের ক্ষমতা আরও দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিলেন তারা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকার এসব খু’\নি, বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের অতি উৎসাহী অনুগত হিসেবে পরিচিত ডিআইজি থেকে শুরু করে সহকারী পুলিশ সুপার বা এএসপি পদমর্যাদার মোট ৮০ জন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Home Affairs) খুব দ্রুত পর্যায়ক্রমে এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে।
এই শুদ্ধি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ৩৩তম বিসিএসের মিশু বিশ্বাস ও জুয়েল চাকমা এবং ৩৬তম বিসিএসের মাহমুদুল হাসানকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নির্বিচারে গু’\লি চালানো এবং অতীতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের গু’\ম ও খু’\নে’\র সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় ফ্যাসিবাদী দমননীতির প্রধান হোতারা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাকরিচ্যুতির তালিকায় থাকা ৮০ কর্মকর্তার অধিকাংশকেই বর্তমানে সরকারি নথিতে ‘অনুপস্থিত ও পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় আন্তর্জাতিক অপরাধ, হ’\ত্যা ও বি’\স্ফো’\রক আইনে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী এবং পল্টন, উত্তরা ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি স্না’\ইপার ব্যবহার ও খুব কাছ থেকে গু’\লি চালানোর নির্দেশদাতা হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন, নেতাকর্মীদের বিনা কারণে আটক, সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার, গু’\ম, নি’\র্যা’\তন এবং বিচারবহির্ভূত হ’\ত্যা’\কাণ্ডের মতো ঘটনায় তাদের নাম বারবার উঠে এসেছে।
এই তালিকার শীর্ষ পর্যায়ের দুই আলোচিত নাম হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক বিতর্কিত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদ। ‘বিপ্লব-হারুন’ সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিত এসব কর্মকর্তা তৎকালীন বিরোধী দলের প্রায় প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে সাক্ষাৎ যমদূতের মতো ভূমিকা পালন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের নির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিএনপি ও জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মীকে ট’\র্চার সেলে নিয়ে অমানবিক নি’\র্যা’\তন করা হতো। তাদের যৌথ পরিকল্পনায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো এবং নেতাকর্মীদের পকেটে জোর করে কক’\টেল ঢুকিয়ে গ্রেপ্তারের নাটক সাজানোর অভিযোগও রয়েছে।
রাতের অন্ধকারে বিরোধী দলের তরুণ ও উদীয়মান নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে মাসের পর মাস ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখা, পরিবারের কাছ থেকে তাদের অবস্থান গোপন করা এবং আদালত চত্বরে বিরোধীদলীয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের পুলিশের বুট দিয়ে লাঞ্ছিত করার নেপথ্য পরিকল্পনাকারী হিসেবেও এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
বিপ্লব কুমার সরকার বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং পলাতক রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর তিনি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছেন।
অন্যদিকে ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে বিরোধী মতাবলম্বী ও সাধারণ নিরীহ বহু মানুষকে ডিবি কার্যালয়ে তুলে এনে নি’\র্যা’\তন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনের সমন্বয়কদের তুলে এনে তাদের ওপর নি’\র্যা’\তন চালানো হয়েছিল। নি’\র্যা’\তনে’\র মুখে সমন্বয়কদের দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ানোর সব ধরনের অপচেষ্টার নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর হারুন অর রশিদ প্রথমে ভারতে পালিয়ে যান। পরে দুবাই হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন।
একই তালিকায় রয়েছেন ফ্যাসিবাদী দমনব্যবস্থার অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিত অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই তাকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তা বলে মনে করা হতো।
গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় প্রলয় কুমার জোয়ার্দার পুরো জেলা বিএনপি ও জামায়াতমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সময় হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ঘরছাড়া হন এবং অনেকে পুলিশের নি’\র্যা’\তনে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। তার ইশারায় পুলিশের একটি বিশেষ স্কোয়াড ছাত্র আন্দোলনের সময়ও গ’\ণহ’\ত্যা মিশন বাস্তবায়ন করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে প্রলয় কুমার জোয়ার্দারও সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি পলাতক।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলামও চাকরিচ্যুতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিটি কর্মসূচিতে তার নির্দেশেই পুলিশ বেপরোয়াভাবে লাইভ বু’\লেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশে যুগ্ম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পরিচালিত বর্বরোচিত হামলা ও ভাঙচুরের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবেও সৈয়দ নুরুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন বিএনপি কার্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়ে আলোচনায় আসা বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান, যিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার। একই সঙ্গে কিছুদিন আগে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমি থেকে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়া ডিআইজি কেএম এহসানউল্লাহর নামও রয়েছে তালিকায়।
২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় পড়েছে, তখনই এসব দলদাস পুলিশ কর্মকর্তা রক্ষকের অবস্থান ছেড়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে প্রতিটি আন্দোলন দমনে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজেদের ব্যক্তিগত জমিদারির মতো ব্যবহার করেছেন।
দমন-পীড়নে আলোচিত আরও যেসব কর্মকর্তা
মিশু বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার: চাকরিচ্যুত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ ও পল্টন থানায় একাধিক সুনির্দিষ্ট হ’\ত্যা মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হ’\ত্যা, হ’\ত্যা’\চে’\ষ্টা এবং নারকীয় তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তিনি ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে কর্মস্থলে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
এসএম শামীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার: গাইবান্ধার ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত এই কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে শুধু যাত্রাবাড়ী থানাতেই অন্তত ১১টি সুনির্দিষ্ট হ’\ত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের শেষ মুহূর্তেও তিনি সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গু’\লি চালিয়েছিলেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোলাম রুহানী, সহকারী কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশ: ৩৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা দেখে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিস্মিত হয়েছেন। যাত্রাবাড়ী, আদাবর, রমনা, পল্টন, খিলগাঁও, কাফরুল, মুগদা ও ভাটারা থানায় তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ২২টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ভুয়া ও সাজানো মামলায় ফাঁসানো এবং আন্দোলনকারীদের বুকে সরাসরি গু’\লি চালানোর ক্ষেত্রে গোলাম রুহানীর বিশেষ কুখ্যাতি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মো. আরিফুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার: ২৮তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা রংপুরের তাজহাট ও কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা আবু সাঈদ হ’\ত্যা’\কাণ্ডসহ মোট সাতটি হ’\ত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি। শহীদ আবু সাঈদের ওপর পুলিশ যখন গু’\লি চালায়, তখন তিনি সম্মুখসারিতে থেকে পুলিশ সদস্যদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
তালিকায় থাকা রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি আনিসুর রহমান এবং সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি জায়েদুল আলমের বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর তারা এমনভাবে দমন অভিযান চালিয়েছিলেন, যার ফলে বহু এলাকা কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছিল।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জেলায় যে ‘ট্রিগার হ্যাপি’ স্কোয়াড গঠন করে মানুষ হ’\ত্যা করা হয়েছিল, সেই স্কোয়াডগুলোর কমান্ডিং অবস্থানে এসব বিতর্কিত কর্মকর্তা ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চূড়ান্ত চাকরিচ্যুতির অপেক্ষায় আরও যারা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, চাকরিচ্যুতির অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তাদের তালিকায় আরও রয়েছেন বিপ্লব বিজয় তালুকদার, ডিআইজি, পুলিশ টেলিকম; টুটুল চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ডিআইজি, বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত; নূরে আলম মিনা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি; সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, যুগ্ম কমিশনার, ঢাকা মহানগর পুলিশ; মানস কুমার পোদ্দার, অতিরিক্ত ডিআইজি, বরিশাল রেঞ্জ, বর্তমানে পলাতক; গোলাম মোস্তফা রাসেল, নারায়ণগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার, বর্তমানে পলাতক; কাজী আশরাফুল আজীম, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক উপকমিশনার এবং রিফাত রহমান শামীম, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার।
সরকারি নথিতে এসব কর্মকর্তার সিংহভাগকেই ‘অনুপস্থিত ও পলাতক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাদের অধিকাংশই জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে গেছেন।
তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের হাতে র’\ক্তে’\র দাগ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের কয়েকজনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে এনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও অনেক কর্মকর্তাকে এই বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে গত ১৫ বছরে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব কর্মকর্তা দেশে ও বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের অবৈধ সম্পদ শনাক্ত করে বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শৃঙ্খলা কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশের ৮০ জন ক্যাডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা চলমান রয়েছে। তাদের মধ্যে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করে বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চাকরিচ্যুতির জন্য আরও পুলিশ সদস্যের তালিকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধেও চূড়ান্ত বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুতির আদেশ জারি করা হবে।
