রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক, সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (Sardar Md. Sakhawat Hossain)। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে সুন্দর ও মানবিক আচরণও নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (Dhaka Medical College)-এর ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢামেক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের দায়িত্ব শুধু রোগ নিরাময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানবিকতা, নৈতিকতা এবং সেবার মানসিকতা নিয়েও তাদের সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. জুবাইদা রহমান (Dr. Zubaida Rahman)।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস (Dr. Prabhat Chandra Biswas) এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেনসহ অন্যান্যরা।
চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকের পেশা শুধু একটি চাকরি নয়; এটি মানুষের জীবনের জন্য নিবেদিত একটি মহান সেবার দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর পর সবচেয়ে বেশি ভরসা করে একজন চিকিৎসকের ওপর। তাই চিকিৎসকদের দায়িত্ব আরও বেশি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করতে হবে। রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, একজন চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ব’\ন্যার সময় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অসাধারণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। ছুটি উপেক্ষা করে তারা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের ব’\ন্যা পরিস্থিতির সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাই চিকিৎসকদের প্রকৃত অবদান এবং এটাই তাদের নৈতিকতার পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হচ্ছে।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল এবং পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ যেমন উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও একই মানের সেবার দাবিদার। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত বলেন, বাংলাদেশের কোনো উপজেলাই এখন আর গ্রাম নয়; সেখানে আধুনিক নাগরিক সুবিধা পৌঁছে গেছে।
তিনি আরও বলেন, রেফারাল নেটওয়ার্ক কার্যকর করতে চিকিৎসকদের উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যথায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব হবে না।
