এস-৪০০ আমিরাতের কাছে বিক্রির উদ্যোগ তুরস্কের, প্রস্তাবে ইতিবাচক রাশিয়া

তুরস্ক (Turkey)-এর কাছে থাকা রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates)-এর কাছে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আঙ্কারার এই নতুন প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছে মস্কো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

২০১৯ সালে রাশিয়া (Russia)-র কাছ থেকে এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর থেকেই আমেরিকার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। ওই সিদ্ধান্তের জেরে ওয়াশিংটন আঙ্কারাকে তাদের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যু’\দ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। একই সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতের ওপর আরোপ করা হয় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা।

শুধু কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়াই নয়, তুরস্কের জন্য তৈরি করা ছয়টি এফ-৩৫ যু’\দ্ধবিমানও আটকে রাখে যুক্তরাষ্ট্র (United States)। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের স্বার্থে দীর্ঘদিনের এই এস-৪০০ জটিলতার সমাধান খোঁজা হচ্ছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এফ-৩৫ কর্মসূচিতে আবার যুক্ত হতে হলে তুরস্কের কাছে কোনো এস-৪০০ ব্যবস্থা থাকা চলবে না।

এই সংকট কাটাতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এস-৪০০ ক্ষে’\পণা’\স্ত্র ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ খুলে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে সেটিকে অকার্যকর অবস্থায় রাখার একটি প্রস্তাব সামনে এসেছিল। কিন্তু সেই পথ অনুসরণ করলেও নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে—এমন নিশ্চয়তা না থাকায় পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি।

এরপর বিকল্প সমাধান হিসেবে তৃতীয় কোনো দেশের কাছে এস-৪০০ ব্যবস্থা বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা সামনে আসে। সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিক্রি সম্পন্ন হলে তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে এস-৪০০ ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হতে পারবে এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফেরার পথে থাকা বড় বাধাটিও সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ (Dmitry Peskov) জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়ার আলোচনা চলছে। তবে আলোচনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

রাশিয়ার একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের প্রস্তাবের বিষয়ে মস্কোর অবস্থান ইতিবাচক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)-এর হাতে। পাশাপাশি এস-৪০০ অন্য কোনো দেশের কাছে বিক্রি করা হলেও মূল ক্রয়চুক্তির শর্তগুলো যেন কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়, সে নিশ্চয়তাও চাইবে রাশিয়া।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত আগে থেকেই রাশিয়ার তৈরি প্যান্টসির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের উৎস বহুমুখী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেশটি এস-৪০০ কেনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই চুক্তি সফল হলে তুরস্কের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে এফ-৩৫ যু’\দ্ধবিমান কর্মসূচিতে আঙ্কারার ফেরার সম্ভাবনাও জোরালো হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি তুরস্কের জন্য একতরফাভাবে সহজ হবে না বলেই মনে করছেন তারা।

এস-৪০০ বিক্রির বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার বিনিময়ে রাশিয়া তুরস্কের কাছ থেকে বড় কোনো কৌশলগত সুবিধা চাইতে পারে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে চলমান গ্যাস সরবরাহ চুক্তির নবায়ন নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনায় মস্কো এই বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।