ক্লাংয়ে প্রবাসীবিরোধী অভিযানে পানের দোকান থেকে শা’\বু উদ্ধার, আ’\টক বহুজন

মালয়েশিয়ায় (Malaysia) অ’\বৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এবার সামনে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। দেশটির সেলাঙ্গরের (Selangor) ক্লাং এলাকায় এক হাজারের বেশি প্রবাসীর কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি একটি পানের দোকান থেকে মেথামফে’\টামিন, স্থানীয়ভাবে যা শা’\বু নামে পরিচিত, উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র নে’\শার অনুভূতি তৈরির উদ্দেশ্যে পানের সঙ্গে শা’\বু মিশিয়ে সেবনের একটি গোপন চক্র সক্রিয় ছিল। একই অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বহু ব্যক্তিকে আ’\টক করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে ক্লাং (Klang) জেলার হেনতিয়ান ক্লাং এলাকায় আকস্মিকভাবে অভিযান শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় দোকানপাট, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি শ্রমিকদের আবাসন বা হোস্টেল ঘিরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি শ্রমিক ও প্রবাসীদের বসবাস এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

অভিযান চলাকালে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আ’\টক ব্যক্তিদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করেন। ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান বা ওভারস্টে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাস এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অন্যান্য অ’\পরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের কাগজপত্রের বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অ’\বৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া কিংবা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার সঙ্গে কোনো নিয়োগকর্তা বা তৃতীয় পক্ষ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অভিযানের সময় কয়েকটি আবাসিক ইউনিটে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আলামতের পাশাপাশি নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রির প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে অভিযানটি শুধু অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে আরও কিছু গোপন কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রায় ২৫০ জন কর্মকর্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যের অংশগ্রহণে এ সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়। এতে পুত্রাজায়া ও মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (Immigration Department of Malaysia)-এর সেলাঙ্গর শাখার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশন (Companies Commission of Malaysia—SSM) এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের সেলাঙ্গর শাখা, কেপিডিএনও অংশ নেয়।

অভিযানে আ’\টক ব্যক্তিদের পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের জন্য সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযানের বিস্তারিত তথ্য মঙ্গলবার পুত্রাজায়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করবেন মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান (Datuk Zakaria Shaban)।

এদিকে অভিযানের সময় ক্লাংয়ের জালান কেপায়াং এলাকার বাস স্ট্যান্ড ক্লাং-সংলগ্ন একটি পানের দোকানেও তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেই সন্দেহভাজন শা’\বু উদ্ধার করেন অভিযান পরিচালনাকারীরা। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দোকানটি প্রকাশ্যে শুধু পান বিক্রি করলেও নিয়মিত ও পরিচিত ক্রেতাদের কাছে গোপনে শা’\বু সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্রটির দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতেই সাধারণ পানের ব্যবসার আড়ালে সম্ভাব্য এই মা’\দক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া শা’\বু পানের সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করলে নে’\শার প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠত বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া সব মা’\দকদ্রব্য এবং দোকানে থাকা বিক্রয় সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযান চলার সময় দোকানটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তার পরিচয় শনাক্ত এবং অবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

পানের ব্যবসার আড়ালে পরিচালিত সম্ভাব্য মা’\দক সরবরাহ চক্রটি কত দিন ধরে সক্রিয় ছিল, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে কীভাবে শা’\বু সরবরাহ করা হতো—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।