গাইবান্ধার আলোচিত রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র গ্রে’\প্তার, সিআইডির দাবি মানি লন্ডারিং মামলায় অভিযান

সারাদেশে আলোচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার রাম মূর্তি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস (Haridas Chandra Taruni Das)-কে গ্রে’\প্তার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (Criminal Investigation Department-CID)।

রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পলাশবাড়ী (Palashbari) উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রে’\প্তার করা হয়।

গ্রে’\প্তার হওয়া হরিদাস চন্দ্র, যিনি তরুণী দাস নামেও পরিচিত, উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দিরের আধুনিকায়ন এবং মন্দির চত্বরে রাম মূর্তি নির্মাণ উদ্যোগের প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত।

সোমবার পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান গ্রে’\প্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার উত্তরা (পশ্চিম) থানায় দায়ের করা একটি মানি লন্ডারিং মামলায় সিআইডি তাকে গ্রে’\প্তার করেছে। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভাবের সংসারে পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে হরিদাস চন্দ্র ছিলেন চতুর্থ। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে তিনি ভারতে চলে যান। দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালে নিজ গ্রামে ফিরে এসে শ্রী শ্রী কালি মন্দিরের পুরোনো অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন।

এ বিষয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে হরিদাসকে সভাপতি এবং বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি মন্দির কমিটি গঠন করা হয়।

২০২৫ সালের মে মাসে মন্দিরের সংস্কার কাজ শুরু হয়। পরে মন্দিরটির নাম পরিবর্তন করে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালি মন্দির রাখা হয়। এরপর মন্দির প্রাঙ্গণে ৮১ ফুট উঁচু রাম মূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

নির্মাণকাজ এবং এর অর্থের উৎস নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে রাম মূর্তি অপসারণ, হরিদাস চন্দ্রের গ্রে’\প্তার এবং প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধানের দাবিতে পলাশবাড়ী, গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর র‌্যাব (Rapid Action Battalion-RAB) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রে’\প্তার করা হয়েছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসারের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

পরবর্তীতে র‌্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় হরিদাস ভারতে যান। সেখানে এক আত্মীয়ের সহায়তায় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে এতিম সনদ সংগ্রহ করেন। পরে একটি বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

র‌্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় এসে পুরোনো এসি মেরামত ও কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৯ সালে বিয়ের উদ্দেশ্যে ধর্মান্তরিত হয়ে হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস থেকে তাওহীদ ইসলাম নাম গ্রহণ করেন। এরপর ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছে কিছু জমি কেনেন। একই সঙ্গে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য ও বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ওঠে।