বৃষ্টির মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা: ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্য ঘিরে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে নতুন বিতর্ক

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং নেটিজেনদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন (Dr. A N M Ehsanul Haque Milon)। এরই মধ্যে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাকও দিয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে শোনা যায় শিক্ষামন্ত্রীকে। ভিডিওতে পরীক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’ সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিটি কলেজ (City College)-এর এক ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। ছাত্রীর অভিভাবক হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে মেয়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। রোববার (১২ জুলাই) রাতে হওয়া ওই কথোপকথন চলাকালে অন্য একটি মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘মিটিংয়ে একজন বলছিলেন, একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে। বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসে। তখন আমি মিটিংয়েই বলছিলাম যে, একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিনদিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।’

এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, ‘আমি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু ডিসিদের ফোন করা হলো, আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা হলো; তারা জানালেন যে, আগামীকাল (সোমবার) বৃষ্টি হবে না। আজ (রোববার) রাতেই শেষ। তখন পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।’

এর জবাবে ওই ছাত্রী মন্ত্রীকে জানান, অনেক পরীক্ষার্থী ইতোমধ্যেই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘স্যার, আমরা তো সিটি কলেজের স্টুডেন্ট। যারা পরীক্ষা দিচ্ছি, তাদের অলরেডি অনেকের জ্বর। কারণ বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থা খারাপ। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার দিন বৃষ্টিতে ভিজেছি, আইসিটি পরীক্ষার দিনেও প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে।’

শিক্ষামন্ত্রী তখন বলেন, ‘আমরা ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। সেখানে সবাই বলছেন আমরা প্রিপেয়ার্ড। শিক্ষার্থীরাও প্রিপেয়ার্ড। মিটিং করেছি, সেখানে কেউ পরীক্ষা পেছানোর জন্য রাজি হয় না। আমি রাজি ছিলাম… অন্যদের চেয়ে আমি পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলাম। যাই হোক তুমি পরীক্ষা দিয়ে ফেলো। আশা করি ভালো হবে।’

আলোচনার একপর্যায়ে পরীক্ষার রুটিন নিয়েও অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। তিনি বলেন, ‘উচ্চতর দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার আগে একদিন ছুটি। এত চ্যাপ্টার… মাঝে একদিন মাত্র ছুটি। সেটা কি হয় স্যার? একদিনে কি এতগুলো চ্যাপ্টার রিভাইস করা সম্ভব? বিশেষ করে ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের মতো বিষয়ে, যেখানে ১১টা চ্যাপ্টার।’

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি তোমাকে বলি, তোমাদের স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে কথা বলে রুটিন দিয়েছি। তারপরও বলেছি, যদি এ রুটিন গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে আমি চেঞ্জ করবো। কিন্তু কেউ তো আমাকে কোনো রেসপন্স করেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতেই তো রুটিন করা হচ্ছিল যে সকাল-বিকেল পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত শেষ করবে। যেটা আমরাও ছাত্রজীবনে দিয়েছি। তখন আমি বললাম, এটা সম্ভব না। ওরা পারবে না, কষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত একদিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হোক। সেটাই এখন নেওয়া হচ্ছে। আমি সবকিছু চিন্তাভাবনা করেই করেছি।’

কথোপকথনের শেষদিকে মন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো বলে আর লাভ হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। নো বডি একসেপ্ট মি, যে পরীক্ষা পেছানোর ব্যাপারে। তুমি তো সিটি কলেজ। চিন্তা কইরো না। এখন গরম এক কাপ কফি দিতে বলো, খেয়ে পড়তে বসে যাও।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Education) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।