যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পরও ইরানের ওপর মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন মোজতবা খামেনি (Mojtaba Khamenei)। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই এবং ‘ধমক, জবরদস্তি ও আধিপত্যবাদ’ই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির পক্ষে পাঠ করা এক লিখিত বিবৃতিতে এসব মন্তব্য করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল জাজিরা (Al Jazeera)।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে করা সমঝোতার পরও ‘গ্রেট শয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করা যুক্তরাষ্ট্র বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ’ এবং ধমক, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতাই যুক্তরাষ্ট্রের মতবাদ ও পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করেছে, যা দেশটির ‘প্রতারণা, অযৌক্তিকতা ও অবিশ্বস্ততা’ প্রকাশ করেছে।
ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মোজতবা খামেনি বলেন, তেহরান ও এর আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ পেতে হবে।
তার ভাষায়, ইরানের জনগণ এবং ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণ ও রাষ্ট্রের সব স্তরের মধ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অপরাধী ও ধূর্ত মার্কিন শত্রুর বিরুদ্ধে ইরানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা।’
এদিকে মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক সময়ে বিজয় অর্জনের চাবিকাঠি হলো জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং বিভেদ ও মতবিরোধ এড়িয়ে চলা।’
এর আগে গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পরিবেশ তৈরি করা। এতে স্বাক্ষর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তবে পরবর্তীতে তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এর জেরে দুই পক্ষই কার্যত সমঝোতা স্মারকটিকে ‘বাতিল’ বলে ঘোষণা করেছে।


