জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আ’\হত সানজিদা আহমেদ তন্বী (Sanzida Ahmed Tanvi)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka)-এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। একই ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (DUCSU)-ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম জুবাহ বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (Bangladesh Chhatra League)-এর হামলায় আ’\হত শিক্ষার্থী এবং ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বীকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে অধ্যাপক কাবেরী গায়েনের বিরুদ্ধে জরুরি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতেই তারা এই স্মারকলিপি দিয়েছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চারটি সুস্পষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা; অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অধ্যাপক কাবেরী গায়েনের বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ; ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি যেন কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়ে অবমাননাকর বা মানহানিকর মন্তব্য করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থীর সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর প্রক্টর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান রিয়াদুল ইসলাম জুবাহ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্টর জানিয়েছেন যে অভিযোগটি তাৎক্ষণিকভাবে উপাচার্যকে অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে, একই ইস্যুতে শনিবার (১৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডাকসু। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, জুলাই বিপ্লবকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই বিপ্লবের আ’\হত যোদ্ধা ও ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বীসহ জুলাইয়ের আ’\হত যোদ্ধা এবং শহীদদের ঘিরে যেসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ধারাবাহিক অপপ্রচারের অংশ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
ডাকসু আরও বলেছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ইতিহাস বিকৃত করা এবং জুলাই বিপ্লবকে বিতর্কিত রাজনৈতিক বয়ানে প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর বা অপপ্রচারমূলক তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আ’\হত শিক্ষার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বীকে নিয়ে অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (Jahangirnagar University)-এর ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) অধ্যাপক রিসালা খানের বিরুদ্ধে তদন্ত-সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
