ভুয়া করোনা রিপোর্ট ও প্রতারণার মামলায় আলোচিত রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদ আবারও গ্রে’\প্তার

করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভুয়া করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি এবং নানা প্রতারণার অভিযোগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা রিজেন্ট হাসপাতালের (Regent Hospital) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ (Mohammad Shahed) আবারও পুলিশের হাতে গ্রে’\প্তার হয়েছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে তাকে গ্রে’\প্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির।

ওসি হাসান বাসির জানান, সাহেদের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় গ্রে’\প্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। পল্লবী থানার (Pallabi Police Station) অনুরোধের ভিত্তিতে ক্যান্টনমেন্ট থানা (Cantonment Police Station) পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে পল্লবী থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তিনি আরও জানান, সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গ্রে’\প্তারের কারণ ও সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রায় এক মাস পর জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন সাহেদ। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অ’\স্ত্র ও মানি লন্ডারিংসহ মোট ৩৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় পর্যায়ক্রমে জামিন পাওয়ার পর প্রায় চার বছর কারাভোগ শেষে তিনি মুক্তি পান।

করোনা মহামারির সময় সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতাল ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। ২০২০ সালের ৭ জুলাই র‍্যাব (Rapid Action Battalion) উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট জব্দ করে। এ ঘটনায় সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযানের পর কিছুদিন সাহেদ আত্মগোপনে ছিলেন। নয় দিন পর, ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রে’\প্তার করে র‍্যাব। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে একটি অবৈধ অ’\স্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।

এরপর সাহেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগে আরও একাধিক মামলা দায়ের হয়। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অ’\স্ত্র আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারা’\দণ্ড দেন। পরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট তাকে তিন বছরের কারা’\দণ্ড দেওয়া হয়।

তবে সাহেদের বিরুদ্ধে মামলার ইতিহাস আরও পুরোনো। এর আগে ২০১০ সালে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় আদালত তাকে ছয় মাসের সাজা দিয়েছিলেন।

সাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ৩৫টি মামলার মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা একটি মামলাও রয়েছে। ওই মামলায় সিআইডির (Criminal Investigation Department) তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে সাহেদ ১১ কোটির বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন।

প্রায় চার বছর কারাভোগের পর বিভিন্ন মামলায় জামিন নিয়ে মুক্তি পেলেও এবার সিআর মামলার গ্রে’\প্তারি পরোয়ানায় আবারও তাকে পুলিশের হেফাজতে যেতে হলো। জিজ্ঞাসাবাদের পর এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।