আইয়ামে বিজের রোজা: মাসে তিন দিনের সুন্নাহ আমলে সারা বছরের সওয়াবের সুসংবাদ

বান্দার সঙ্গে রবের নৈকট্য অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ইবাদত। ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহর আরও সান্নিধ্যে পৌঁছে যায়। নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত—সবই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নামাজ যেমন প্রতিদিনের ফরজ ইবাদত, তেমনি রমজান মাসের রোজাও প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের জন্য ফরজ। তবে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি ইসলামে সুন্নাহ ও নফল ইবাদতেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা, যা ‘আইয়ামে বিজ’-এর রোজা নামে পরিচিত, একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমল।

আরবি ভাষায় ‘আইয়ামে বিজ’ অর্থ উজ্জ্বল বা শুভ্র দিবস। প্রতি মাসের এই তিন দিনে পূর্ণিমার চাঁদের আলো সবচেয়ে উজ্জ্বল থাকে। এ কারণেই হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বিজ বলা হয়। রাসুল (সা.) নিজে এই দিনগুলোতে রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও এ রোজা পালনে উৎসাহিত করেছেন।

হাদিসে আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, “তুমি যদি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতে চাও, তবে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখো।” (তিরমিজি: ৭৬১)

আইয়ামে বিজের রোজা রাখার নিয়ম

আইয়ামে বিজের রোজা প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখতে হয়। এ রোজার নিয়ম ফরজ রোজার মতোই। রোজা রাখার জন্য নিয়ত করা অপরিহার্য। নিয়ত অন্তরে করাই যথেষ্ট, তবে রাতেই বা ফজরের আগে নিয়ত করে নেওয়া উত্তম। (মুসলিম: ১১৫১)

আইয়ামে বিজের রোজার ফজিলত

আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে এসেছে, নবী করিম (সা.) সাহাবিদের আইয়ামে বিজের রোজা পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন। এই রোজার মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য সওয়াবের কারণ হয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখে, তার জন্য তা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।” (বুখারি: ১৯৭৯)

আরেক হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, “হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা তার প্রবৃত্তিকে দমন করে।” (বুখারি: ১৫৬৬; মুসলিম: ১৪০০)

রোজার আত্মিক শিক্ষা

রোজা মানুষের অন্তরে তাকওয়া, আত্মসংযম ও আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে। এটি মানুষকে চোখ, কান, জিহ্বা এবং নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। রোজা পাপ থেকে বিরত থাকার শক্তি জোগায়, নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে এবং মানুষের প্রতি উদারতা ও মহানুভবতা গড়ে তোলে। একই সঙ্গে এটি বান্দাকে মহান আল্লাহর আদেশ পালনে আরও দৃঢ় করে।

রোজা এমন এক ইবাদত, যার প্রতিদান স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা প্রদান করবেন। এটি মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করে, কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অন্তরে ঈমানের আলোকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি সুন্নাহ ও নফল ইবাদতের প্রতিও যত্নবান হওয়ার তৌফিক দান করুন এবং আমাদের প্রতিটি নেক আমল কবুল করে তাঁর নৈকট্য দান করুন। আমিন।