চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাওয়ার কথা জানিয়েছেন পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammed Shahabuddin)। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে এরই মধ্যে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ। তাই চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই তিনি বিদেশে যাবেন। তবে চিকিৎসার গন্তব্য হিসেবে সিঙ্গাপুর (Singapore) অথবা ব্যাংকক (Bangkok)—এই দুই জায়গার যেকোনো একটি বেছে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে শনিবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে নিজের একাধিক শারীরিক জটিলতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। ওই অস্ত্রোপচারের পর তিনি ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার এই অবনতির পরিপ্রেক্ষিতেই চিকিৎসকেরা তাকে দেশের বাইরে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেপ্টেম্বরে
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির দলীয় কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করা হবে, নাকি দলের বাইরের কাউকে বেছে নেওয়া হবে—সে সিদ্ধান্ত দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
শনিবার বগুড়ার শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir)।
দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি বিএনপির দলীয় কেউ হবেন, নাকি রাজনৈতিক দলের বাইরের কোনো ব্যক্তিকে এই পদে আনা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন অনুসরণ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনা করা হবে। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই দেশের মানুষ জানতে পারবে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাকে মনোনীত করা হচ্ছে।
একই দিন রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, আগামী ৬০ দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনা করে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
তার মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংসদ অধিবেশন বসার সুযোগ থাকায় শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি।
একই দিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত করেন দলটির নেতারা।
কর্মসূচি শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী (Ruhul Kabir Rizvi) সাংবাদিকদের বলেন, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম।
তিনি বলেন, যথাসময়ে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে না বলেও তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির বিচারের দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে। এ দাবির বিষয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা হবে। দলীয় আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানানো হবে।
আরেকটি অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, দেশের রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তার সেই অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন, “কেন পদত্যাগ করেছেন, কী হয়েছে—আমি জানি না। পদত্যাগের সঙ্গে রাজনীতি জড়িত আছে বলে আমার মনে হয় না।”
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি অফিস করবেন বঙ্গভবনে, থাকবেন স্পিকারের বাসভবনে
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন সরে দাঁড়ানোর পর সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmad)।
তবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেও তিনি বঙ্গভবনে বসবাস করবেন না। স্পিকার হিসেবে তার জন্য নির্ধারিত বাসভবনেই তিনি থাকবেন। রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য নিয়মিত বঙ্গভবনে অফিস করবেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্পিকারের বাসভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গত শুক্রবার সেখানে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সেদিন বিকেলে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যান। তার পদত্যাগের পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ সকাল সাড়ে ১১টায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের কথা রয়েছে। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি।
এরপর বেলা সাড়ে ১২টায় শেরেবাংলা নগরে যাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। সেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জিয়ারত করার কর্মসূচি রয়েছে তার।
