মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে দলীয় কর্মী ও সাধারণ লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংসদ ভবন এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব কিংবা অপপ্রচার না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে (Sher-e-Bangla Nagar) অবস্থিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন (Ishraque Hossain)। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারা মাজার প্রাঙ্গণে কিছু সময় নীরবতা পালন করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
তবে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষ হওয়ার পর মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত দলীয় কর্মী ও সাধারণ লোকজনের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক ধস্তাধস্তি ও হা’\তাহা’\তিতে রূপ নেয়।
সংসদ ভবন এলাকায় ঘটে যাওয়া ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে উপস্থিত দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তা হা’\তাহা’\তির দিকে গড়ায়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রতিমন্ত্রী নিজেই সামনে এগিয়ে এলে তাকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ভিডিওতে কয়েকজনকে পেছন থেকে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে হে’\নস্তা করার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। এ সময় একজন পুলিশ সদস্য তাকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব ও অপপ্রচার না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৫ জুলাই নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হঠাৎ তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে দেখে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
বিবৃতির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রতিমন্ত্রী নিজেই এগিয়ে যান এবং সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ সড়কটি আবার যান চলাচলের উপযোগী করতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করেন।
এতে আরও দাবি করা হয়, বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সং’\ঘর্ষ এড়াতে ইশরাক হোসেন তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দূরত্ব তৈরি করেন। পরে উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার নির্দেশও দেন তিনি।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ঘটনাস্থলে কোনো পক্ষের হয়ে অবস্থান নেননি। বরং উত্তেজিত দুই পক্ষকে আলাদা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ইশরাক হোসেন সব সময় শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও তিনি নিজে এগিয়ে গিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেছেন।
ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের উসকানি ছিল কি না কিংবা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবাইকে বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
