ভারতজুড়ে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ)। সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে গ্রেপ্তার, আটক এবং পুলিশি হয়রানি থামেনি।
মঙ্গলবার প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া (Press Club of India)-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এআইএসএ নেতারা অভিযোগ করেন, বিশেষ করে বিহার, দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং অনেককে ইচ্ছামতো আটক করা হচ্ছে। দিল্লি, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এআইএসএর জাতীয় সভাপতি নেহা (Neha), দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্পাদক অঞ্জলি, আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবক এম জুনায়েদ এবং অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে গঠিত আইনি দলের আইনজীবী মানিক গুপ্ত।
এআইএসএর জাতীয় সভাপতি নেহা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন হবে না বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, নির্বিচারে আটক এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। তিনি সরকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে সংলাপে বসার দাবি জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে সিপিআই (এমএল) লিবারেশন (CPI(ML) Liberation)-এর বিধায়ক সন্দীপ সৌরভ এবং এআইএসএর বেশ কয়েকজন কর্মী এখনও কারাগারে রয়েছেন। বিশেষ করে বিহারে ছাত্র ও যুব আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এআইএসএ একটি তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের আটক ও আহত হওয়ার ঘটনা এবং বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে গ্রেপ্তার ও পুলিশি অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দেশব্যাপী শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং আন্দোলন সংশ্লিষ্ট সব আটক ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party-CJP) অভিযোগ করেছে, সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পরও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে তারা আবারও আন্দোলনে ফিরবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করেছে সংগঠনটি।
অন্যদিকে, সূর্য কান্ত (Surya Kant), ভারতের প্রধান বিচারপতি, দিল্লির আন্দোলনে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করেছে।
এদিকে মহারাষ্ট্র, বিহার ও আসাম সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন রাজ্যে এখনও আন্দোলনকারীদের কাছে পুলিশি নোটিশ ও সমন পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশ জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ৫০০-র বেশি প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব কার্যক্রমে বিদেশভিত্তিক কিছু অসামাজিক চক্র, বিশেষ করে পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের উৎস থেকে পরিচালিত সমন্বিত প্রচারণার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
**সূত্র এনডিটিভি


