আ’ন্তর্জাতিক অপ’রাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম (Md. Aminul Islam) অভিযোগ করেছেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Human Rights Watch) বাংলাদেশকে নিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। তাঁর দাবি, যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই সংস্থাটি বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে আ’ন্তর্জাতিক অপ’রাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে দাবি করে, বাংলাদেশের আ’ন্তর্জাতিক অপ’রাধ ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড যথাযথভাবে বজায় রাখা হচ্ছে না। সংস্থাটির ভাষ্য, এ ধরনের ঘাটতির কারণে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, আইনের শাসন দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অন্যায়ভাবে কারাবন্দী হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
ওই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কিংবা তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। বরং হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ যেসব সংস্থা এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, তাদের প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রসিকিউশনের প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে এবং যথাযথ তথ্য যাচাই না করেই সংস্থাগুলো পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২০ জন প্রসিকিউটর এবং ২৪ জন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ভাষ্য, তদন্ত সংস্থার সব কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন। একইভাবে প্রসিকিউশন দলের সদস্যরাও অভিজ্ঞ আইনজীবী। তিনি নিজে ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, অধিকাংশ প্রসিকিউটরেরও ২০ বছরের বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফৌজদারি আইন বিষয়ে দক্ষ আইনজীবীরাই এই দলে কাজ করছেন।
বিচারের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আ’ন্তর্জাতিক অপ’রাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ বাংলাদেশের নিজস্ব আইন। এই আইন অনুযায়ী দেশের বিচারক, আইনজীবী ও প্রতিষ্ঠান দিয়েই বিচার পরিচালিত হবে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এখন কি বিদেশি জজ আর বিদেশি আইনজীবী দিয়ে আমি কাজ করাব?’
সাক্ষ্যবিবরণীর ভাষাগত মিল নিয়ে এইচআরডব্লিউর পর্যবেক্ষণেরও জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, একটি ঘটনায় অনেক মানুষ শ’\হীদ হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই একই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বক্তব্যে মিল বা সামঞ্জস্য থাকতে পারে। তাঁর মন্তব্য, ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলতে চাইল, সব কটি স্টেটমেন্ট একই রকম। একই রকমই তো হবে।’
তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট আসামির পক্ষে ইনিয়ে-বিনিয়ে সাফাই গেয়ে যদি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে থাকে, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
