ভারতে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijit Deepke) অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশি হামলা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমি’\ত শা’\হ (Amit Shah)-এর নির্দেশেই পরিচালিত হয়েছিল। এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন।
দীপকের ভাষ্য, ছাত্রদের ওপর যে ধরনের আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের র’\ক্ত ঝরেছে, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া সম্ভব নয়।
এর আগের দিন বুধবার প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধী বিল নিয়ে সংসদে বিতর্ক চলাকালে ভারতের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি দাবি করেন, গত ২০ জুলাই পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ‘ককরোচ’দের সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়। সে সময় লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ও পেলেটও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে অমি’\ত শা’\হের পদত্যাগও দাবি করেছিলেন বিরোধী দলনেতা।
রাহুল গান্ধীর সেই বক্তব্যের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একই সুর শোনা যায় সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপকের কণ্ঠে। ২০ জুলাইয়ের পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি তিনি বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন।
এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য সিজেপি বিদেশি অর্থসাহায্য পেয়েছে— এমন অভিযোগও উড়িয়ে দেন দীপকে। তিনি বলেন, যদি সত্যিই তারা বিদেশি অর্থ পেয়ে থাকে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা আটকাতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবে সেটিও অমি’\ত শা’\হের ব্যর্থতা। তাঁর প্রশ্ন, সে ক্ষেত্রে নিজেকে ‘চাণক্য’ বলে দাবি করার সুযোগ কোথায়? বরং সেই কারণেও তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।
দীপকে আরও অভিযোগ করেন, ২০ জুলাই দিল্লি (Delhi) পুলিশ পরিকল্পিতভাবে পাথর নিক্ষেপের একটি ঘটনা সাজিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অজুহাত তৈরি করেছিল। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরে একটি ট্রাকে করে পাথর এবং একটি ভাঙাচোরা গাড়ি আনা হয়, যাতে পরে পুলিশি অভিযানের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করা যায়। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনাই পরিকল্পিত ছিল এবং বিজেপির লোকজন পাথর ছুড়লেও দোষ চাপানো হয় ছাত্রদের ওপর।
উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের জেরে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-কে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়। আন্দোলনের এই পর্ব শেষ হওয়ার পর বুধবার নিজ রাজ্য মহারাষ্ট্রে ফিরে দফায় দফায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অভিজিৎ দীপকে।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্ব পালনের চেয়ে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সমাজমাধ্যমে বেশি স্বচ্ছন্দ। দীপকের ভাষায়, “আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এখন ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তিনি ভালো কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে অন্য কোনও নেতার হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দেওয়া উচিত।”
একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরও কেন্দ্র এবং বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের সরকার আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে হয়রানি করছে। তিনি দাবি করেন, আন্দোলন তুলে নেওয়ার পরও বিভিন্ন রাজ্যে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। সরকারকে অবিলম্বে এসব বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, তা না হলে আগামী নির্বাচনে আন্দোলনকারীরাই এর জবাব দেবে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি বলেও দাবি করেন দীপকে। তাঁর বক্তব্য, “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে যে ভাবে পদত্যাগ করানো হয়েছে, প্রয়োজনে একইভাবে সরকারও বদলে দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বড় পরিসরে গড়ে তোলা হবে।”
**সূত্র আনন্দবাজার


