কাঁচামালের তীব্র সংকট, এলসি খুলতে না পারা এবং ব্যাংক হিসাব জব্দসহ নানা জটিলতার কারণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপ (S. Alam Group)-এর সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর শুক্রবার (১ আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে।
এস আলম সুগারের শিফট ইনচার্জ প্রকৌশলী মো. হাসমত আলী বলেন, কাঁচামালের সংকটের কারণে গত দুই বছর ধরে কারখানায় উৎপাদন কার্যত বন্ধ ছিল। উৎপাদন না থাকলেও এ সময় কর্মীদের বেতন-ভাতা দিয়ে এসেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আর সম্ভব না হওয়ায় কর্মীদের বিদায় দিতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি জানান, শুধু এস আলম সুগার থেকেই একসঙ্গে ৩৮৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাইকে অবসর ভাতাসহ প্রাপ্য বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন ধাপে ১৫ জন ও ৪০ জন করে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছিল।
কর্ণফুলীতে বন্ধ হওয়া এস আলম গ্রুপের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড-এনওএফ, এস আলম স্টিল এবং এস আলম ব্যাগ। প্রতিষ্ঠানগুলোর সবকটিই কর্ণফুলীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এলসি খুলতে না পারা, ব্যাংকিং জটিলতা এবং কাঁচামাল আমদানিতে অক্ষমতার কারণে কারখানাগুলো চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই বিভিন্ন কারখানায় ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশেষ করে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে জানা যায়, শুধু একটি নয়, গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যাহতি দিয়ে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়া এবং কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় কারখানাগুলো আগেই সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছিল। মজুত থাকা কাঁচামাল দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালানো হলেও ধীরে ধীরে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে কয়েক ধাপে শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও এবারই প্রথম গ্রুপটির কর্ণফুলীর সব কারখানার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কর্মীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম (Rafiqul Islam) বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ চাইছেন কর্মরতরা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।’
