বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) চলতি বছরের শেষ নাগাদ ভারত থেকে দেশে ফিরবেন বলে সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এর মধ্যেই প্রকাশিত ভারতের সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে আশ্রয়ে থাকলেও সেখান থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি তার নেই।
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ, ভিসা নীতি, গঙ্গা পানিচুক্তি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs) ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ভারত সরকার প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন শশী থারুর (Shashi Tharoor)। বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানবিক বিবেচনা এবং দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত আশ্রয়নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সেই আশ্রয়ের আওতায় ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা নীতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসা প্রদানের হার কমে যাওয়ায় জনমনে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুই দেশের সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু করেছে ভারত। এর আগে প্রায় দুই বছর এই ধরনের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
এ ছাড়া ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিচুক্তি (Ganges Water Treaty)-র মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এটি নবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। তাই প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চীন (China)-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি।


