সেউতায় অভিবাসী সংকটে ইউরোপে কূটনৈতিক চাপ, সীমান্তে নতুন ব্যারিয়ার বসাচ্ছে স্পেন

উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতা (Ceuta)-তে অভিবাসীদের ব্যাপক অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সমুদ্রপথ ও সীমান্ত প্রাচীর টপকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটিতে প্রবেশ করেন। স্প্যানিশ ও মরক্কোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্তের স্প্যানিশ অংশ থেকে অন্তত ৬৭টি মৃ’\তদে’\হ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার পর্যন্ত ৪৮ হাজারের বেশি অভিবাসী স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন।

ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক বিরোধকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্পেনের অভিযোগ, সীমান্তে মরক্কো (Morocco)-এর সীমান্তরক্ষীদের নিষ্ক্রিয়তা এই অনুপ্রবেশকে সহজ করেছে। তাদের মতে, পশ্চিম সাহারা ইস্যুকে ঘিরে মরক্কো, আলজেরিয়া (Algeria) এবং স্পেনের মধ্যকার বহু বছরের বিরোধেরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বর্তমান সংকটে।

প্রায় পাঁচ দশক আগে স্পেন পশ্চিম সাহারা অঞ্চল থেকে নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করার পর থেকেই এই ভূখণ্ড নিয়ে মরক্কো এবং আলজেরিয়া-সমর্থিত স্বাধীনতাকামী পোলিসারিওর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। দীর্ঘদিন ইউরোপ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপ মরক্কোর অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

২০২২ সালে স্পেন পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে মরক্কোর অবস্থানকে সমর্থন দেওয়ায় আলজেরিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সম্প্রতি সেই সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী আলজেরিয়া সফর করেন। তবে এই সফরকে ভালোভাবে নেয়নি মরক্কো। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, স্পেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই সীমান্ত পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নেয়নি দেশটি।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ (Pedro Sánchez) এই সংকটের জন্য দেশের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় এবং মানব পাচারকারীদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের কারণে সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর সময় আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই মানব পাচারকারী চক্রগুলো ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেউতার তারাজাল ব্রেকওয়াটার সীমান্তে ৫০০ মিটার দীর্ঘ ভাসমান ব্যারিয়ার স্থাপনের কাজ শুরু করেছে স্পেন। ব্যারিয়ারের মাঝখানে একটি বিশেষ চ্যানেল রাখা হয়েছে, যাতে সিভিল গার্ডের টহল জাহাজ সার্বক্ষণিক চলাচল করতে পারে। একই সঙ্গে সৈকত ও সীমান্তজুড়ে সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

এই অভিবাসী সংকটের প্রভাব ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির আওতায় পাসপোর্টমুক্ত চলাচল এক মাসের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি (Italy)। মাদ্রিদ এই পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। একই সময়ে ইইউর ২২টি সদস্যরাষ্ট্র জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে এবং ফ্রন্টেক্সের মাধ্যমে স্পেনের সীমান্ত নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।