বর্ষীয়ান রাজনীতিক হয়েও মা-বাবাকে নিয়ে ঘৃণ্য বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে কর্নেল অলি আহমেদ নিজের বংশ ও জাতের পরিচয় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান (Rashed Khan)। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, জামায়াতে যোগ দিলে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না—কর্নেল অলি আহমেদ তার নিকৃষ্ট ও বাস্তব উদাহরণ।
রোববার দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, কর্নেল অলি আহমেদ (Colonel Oli Ahmed)-এর মতো একজন মানুষ তার সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে বাবা-মায়ের পরিচয় নেই বলে যে ধরনের ঘৃণ্য বক্তব্য দিয়েছেন, এরপর থেকে তিনি আর ন্যূনতম সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। তবে তারপরও তিনি তাকে সম্মান দিয়েই কথা বলবেন বলে উল্লেখ করেন।
অলি আহমেদকে উদ্দেশ করে রাশেদ খান লেখেন, বিএনপি সরকারের পতন এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটানোর হুমকি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট মাসুদ করিম (Masud Karim)-এর সঙ্গে তার সখ্যতা ও লেনদেনের বিষয়টি সামনে এনেছেন তিনি। এ-সংক্রান্ত সংবাদ এর আগেও প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল বলে দাবি করেন রাশেদ। তার ভাষায়, অলি আহমেদের সৎ সাহস থাকলে তিনি যেন স্পষ্ট করে বলেন—মাসুদ করিমের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
রাশেদ খান আরও লেখেন, অলি আহমেদ তাকে ‘র’ কিংবা মোসাদের এজেন্ট হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অথচ বাংলাদেশে আধিপত্যবিরোধী সংগ্রাম করতে গিয়ে তারা যখন মা’\ইর ও মামলার শিকার হয়েছেন, তখন অলি আহমেদ শেখ হাসিনার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আপস করে বিরোধী দলের আন্দোলন ব্যর্থ করার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর কাছ থেকে বেশি আসন চাওয়ার পেছনে অলি আহমেদের উদ্দেশ্য ছিল সেসব আসন জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়া। তবে বিএনপি তদন্ত করে দেখেছিল, দুর্বল প্রার্থীদের জন্য এতগুলো আসন ছেড়ে দিলে সেগুলো শেষ পর্যন্ত জামায়াতের দখলে চলে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পোস্টে বলেন, অলি আহমেদ যে জামায়াতের হয়ে কাজ করছিলেন, তার প্রমাণ হলো পরবর্তীতে জামায়াতের জোটে তার যোগ দেওয়া। রাশেদের মতে, এ ঘটনাই প্রমাণ করে বিএনপির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
তিনি আরও বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তার মুক্তির দাবিতে যখন বাবা-মা আন্দোলন করছিলেন, তখন অলি আহমেদ গোয়েন্দা সংস্থার খপ্পরের মধ্যে ছিলেন। বিষয়টি মনে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি অলি আহমেদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নিজের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে রাশেদ খান লেখেন, তিনি কোনো বংশ কিংবা মা-বাবার পরিচয়ের ওপর ভর করে এত দূর আসেননি। আল্লাহর অশেষ রহমতে একজন শ্রমিকের সন্তান হয়েও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Dhaka) পড়াশোনা করেছেন। তার চৌদ্দ গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই একমাত্র গ্র্যাজুয়েট বলেও উল্লেখ করেন।
রাশেদ বলেন, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে একজন সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন তিনি। অথচ একজন বর্ষীয়ান নেতা হয়েও তার মা-বাবাকে নিয়ে ঘৃণ্য বক্তব্য দিয়ে অলি আহমেদ নিজের বংশ ও জাতের পরিচয় দিয়েছেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-তে গেলে যে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, কর্নেল অলি আহমেদ তার নিকৃষ্ট ও বাস্তব উদাহরণ।


