বলিউডে তারকাদের পারিশ্রমিক নেওয়ার প্রচলিত কাঠামোয় ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সিনেমায় অভিনয়ের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি এখন অনেক তারকাই ছবির লাভ, স্বত্ব কিংবা আইপিআরের অংশীদার হওয়ার পথ বেছে নিচ্ছেন। এবার সেই একই ধরনের পারিশ্রমিক মডেলের কথা ভাবছেন শ্রদ্ধা কাপুর (Shraddha Kapoor)।
‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’খ্যাত উদ্যোক্তা অশনীর গ্রোভার (Ashneer Grover)-এর জীবন অবলম্বনে নির্মিতব্য একটি বায়োপিকে অভিনয়ের কথা রয়েছে শ্রদ্ধার। সেখানে অশনীরের স্ত্রী মাধুরী জৈন গ্রোভার (Madhuri Jain Grover)-এর চরিত্রে তাকে দেখা যেতে পারে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন রাহুল মোদী (Rahul Mody)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রদ্ধাকে প্রায় ২০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সর্বশেষ আলোচনায় নতুন এক সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। এককালীন পারিশ্রমিক হিসেবে পুরো অর্থ নেওয়ার পরিবর্তে সিনেমাটির অন্যতম প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন অভিনেত্রী।
এই মডেল কার্যকর হলে শুরুতেই হয়তো নির্দিষ্ট কোনো পারিশ্রমিক নেবেন না শ্রদ্ধা। পরিবর্তে সিনেমার স্বত্ব, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিক্রি এবং বক্স অফিস থেকে অর্জিত আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ পাওয়ার সুযোগ থাকবে তার। অর্থাৎ ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে ভালো ফল করলে প্রযোজক হিসেবে শ্রদ্ধার মোট আয় প্রস্তাবিত ২০ কোটি রুপিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বলিউডে অবশ্য সিনেমার লাভের অংশীদার হওয়ার এই পদ্ধতি একেবারে নতুন নয়। নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বদলে কিংবা তুলনামূলক কম অর্থ নিয়ে সিনেমার লাভ বা স্বত্বে অংশীদার হওয়ার কৌশল এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন তারকার ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
সম্প্রতি অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar)-ও একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করে লাভবান হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সিনেমায় তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক নিয়ে ছবিটির একটি বড় অংশের স্বত্ব নিজের এবং তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হাতে রেখেছিলেন তিনি। সিনেমাটি সফল হওয়ার পর লাভের অংশ হিসেবে তার আয় ৩৫ কোটি রুপির বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুধু অক্ষয় নন, বর্তমানে বলিউডের শীর্ষ পর্যায়ের আরও অনেক তারকাই নির্দিষ্ট অঙ্কের পারিশ্রমিকের পাশাপাশি সিনেমার মুনাফায় অংশ নেওয়ার মডেলের দিকে ঝুঁকছেন। শাহরুখ খান, আমির খান, সালমান খান, অজয় দেবগন ও রণবীর সিংয়ের মতো তারকাদের ক্ষেত্রেও এমন পারিশ্রমিক কাঠামো নিয়ে কাজ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ফলে শ্রদ্ধা কাপুরও যদি অশনীর গ্রোভারের বায়োপিকে একই পথে হাঁটেন, তাহলে অভিনয়শিল্পীর পাশাপাশি সিনেমাটির ব্যবসায়িক সাফল্যের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে যাবেন তিনি। ছবির বক্স অফিস আয়, ওটিটি বিক্রি কিংবা অন্যান্য স্বত্ব থেকে আয় বাড়লে তার প্রাপ্ত অর্থও সেই অনুপাতে বাড়ার সুযোগ থাকবে।
এদিকে নিজের অন্য কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রদ্ধা। বর্তমানে নতুন সিনেমা ‘ইথা’র শুটিং করছেন তিনি। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য অভিনেত্রী ১২ থেকে ১৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তবে অশনীর গ্রোভারের বায়োপিকের ক্ষেত্রে সমীকরণটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শ্রদ্ধা শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবিত ২০ কোটি রুপি এককালীন পারিশ্রমিক হিসেবে নেবেন, নাকি সরাসরি প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়ে সিনেমার লাভ, স্বত্ব ও অন্যান্য আয় থেকে অংশ নেবেন—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।
ফলে শ্রদ্ধার এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ঘিরে আগ্রহ থাকলেও আপাতত চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষাই করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের পরিবর্তে লাভের অংশীদারত্ব বেছে নিলে সিনেমাটির ব্যবসায়িক ফলাফলের সঙ্গে তার আয়ের অঙ্কও সরাসরি যুক্ত হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেন অভিনেত্রী, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


