উন্নয়ন প্রকল্পে সাশ্রয় ২৫ লাখ টাকা, সরকারি কোষাগারে ফেরালেন কলাপাড়ার সাবেক ইউএনও

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা (Kalapara Upazila)-এর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

খাল পুনঃখননের নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পর প্রকল্পের অব্যয়িত ২৫ লাখ ৩ হাজার ১৯৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

কাউছার হামিদ (Kausar Hamid)-এর দায়িত্ব পালনকালে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব এবং অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোকসেদুল আলম (Md. Moksedul Alam)।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন (Mithaganj Union)-এর স্বনির্ভর খালের স্লুইস থেকে দক্ষিণ দিকে কাওসার হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত মোট ১ কিলোমিটার ৪৫০ মিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল এ কাজ শুরু হয় এবং ২৫ জুন প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়।

খাল পুনঃখনন প্রকল্পটির জন্য মোট সরকারি বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭৬ টাকা। বরাদ্দকৃত এই অর্থের মধ্যে সর্দারসহ মোট ৩২১ জন শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।

এ ছাড়া নন-ওয়েজ খাতে ব্যয় করা হয়েছে ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৯ টাকা। প্রশাসনিক ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৬০ হাজার টাকা। শ্রমিকদের মজুরি, নন-ওয়েজ খাত এবং প্রশাসনিক ব্যয় মিলিয়ে প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।

শুধু খাল পুনঃখননই নয়, প্রকল্পটির আওতায় মোট ১ হাজার ৬০০টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। বৃক্ষ রোপণের এই কার্যক্রমে ব্যয় হয়েছে ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সব মিলিয়ে ৪১ হাজার ৫৬০ ঘনফুট বা সিএফটি মাটি খনন করা হয়।

খাল পুনঃখননের কাজে মোট ৩২১ জন উপকারভোগী শ্রমিক সরাসরি অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ শ্রমিক ছিলেন ২৩৮ জন এবং নারী শ্রমিক ছিলেন ৮৩ জন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের জন্য যে পরিমাণ কাজ নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করার পরও বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ অবশিষ্ট থাকে। কাজ শেষ হওয়ার পর সেই অবশিষ্ট ২৫ লাখ ৩ হাজার ১৯৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার, শ্রমিকদের মজুরি, অন্যান্য খাতের ব্যয় এবং নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়ার এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন কলাপাড়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ।